২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে এবার ‘বোমা’ ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী প্রচারের ময়দান থেকে তাঁর সরাসরি অভিযোগ—রাজ্যে অবাধে কালো টাকা, মাদক এবং অস্ত্র ঢোকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিমান ও কপ্টার! শুধু মৌখিক দাবি নয়, মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তাঁর কাছে এই পাচারের ‘অকাট্য ভিডিও প্রমাণ’ রয়েছে।
পুলিশ কর্তাদের বদলি ও ‘গোপন বোঝাপড়া’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, নাকা তল্লাশি এড়িয়ে এই বেআইনি কারবার নির্বিঘ্নে চালাতেই সুকৌশলে রাজ্যের দক্ষ পুলিশ কর্তাদের ভিন রাজ্যে বদলি করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, “সুপ্রতিম-সহ দক্ষ অফিসারদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধিতে কেউ বাধা না দেয়।” এই রদবদলের নেপথ্যে কংগ্রেস এবং ডিএমকে সুপ্রিমো এম কে স্ট্যালিনের কোনও ‘গোপন বোঝাপড়া’ থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতার হাতে ‘তুরুপের তাস’? নির্বাচনী জনসভা থেকে মমতা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি প্রমাণ ছাড়া কথা বলি না। ফোর্সের বিমানে করে কীভাবে টাকা ও অস্ত্র ঢুকছে, তার ভিডিও আমার কাছে আছে। সময়মতো সব প্রকাশ্যে আনব।” তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই বাংলা থেকে প্রায় ৫০০ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে বিজেপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।
খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কড়া বার্তা শুধু পাচার কাণ্ড নয়, বিজেপির ‘নিরামিষ বনাম আমিষ’ রাজনীতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলার মানুষ কী খাবে তা কেউ বাইরে থেকে ঠিক করে দিতে পারে না। তাঁর কথায়, “বাংলার মানুষ আমিষ খাবে না নিরামিষ, সেই সিদ্ধান্ত কেউ চাপিয়ে দিতে পারবে না। বঙ্গবাসী কখনওই এই সংস্কৃতি মেনে নেবে না।”
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় মুখ্যমন্ত্রীর এই বিষ্ফোরক অভিযোগের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিমানে অস্ত্র ও টাকা পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা নির্বাচনের আগে মোদী সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে ভোটের লড়াই শুরুর আগেই ‘ভিডিও প্রমাণ’ প্রকাশের হুমকি দিয়ে যুদ্ধের ময়দান তপ্ত করে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।





