“আমাদের শান্তিকে দুর্বলতা ভাববেন না!” পাকিস্তানকে চরম হুঁশিয়ারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের

শান্তির প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতিকে কখনোই যেন দুর্বলতা হিসেবে না ভাবা হয়—পাক অধিকৃত অঞ্চল ও পাকিস্তানকে এভাবেই সরাসরি কড়া বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ১৫ অক্টোবর নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘টাইমস নেটওয়ার্ক ন্যাশনাল डिफेंस কনক্লেভ ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শান্তি বজায় রাখতে হলে দেশের সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, শান্তি ও সহাবস্থান আমাদের সভ্যতার মূল ভিত্তি, তবে এর মানে এই নয় যে ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। পাকিস্তানের মদতে যদি ভবিষ্যতে ফের কোনো জঙ্গি কার্যকলাপ ঘটে, তবে ভারত অতীতে চালানো সামরিক অভিযানের থেকেও অনেক বড় ও শক্তিশালী হামলা চালাবে। অতীতে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও সফল সামরিক পদক্ষেপগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ২০১৬ সালের উরি হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক এবং গত বছর পহেলগাঁওয়ে নিরীহ নাগরিকদের হত্যার বদলা নিতে চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’কে একটি ঐতিহাসিক ও নির্ণায়ক আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে রাজনাথ সিং জানান, এই অভিযানের মাধ্যমেই পাকিস্তান ও পক অধিকৃত কাশ্মীরে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের মূল ঘাঁটিগুলি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা অস্ত্র তুলে নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে, তাদের দিন যে ফুরিয়ে এসেছে, সে কথা স্পষ্ট করে দিয়ে তিনি বলেন যে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী তাদের দ্রুত ‘পরলোক’ পাঠিয়ে দিচ্ছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান যে, ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতে নাশকতার উদ্দেশ্যে আসা অধিকাংশ সন্ত্রাসবাদীর আয়ুষ্কাল বা ‘শেলফ লাইফ’ এক বছরেরও কম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ভারতের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী তাদের খতম করে দিয়েছে।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে ব্যক্তিগত সাহস ও মানবতার শক্তির জয়গান গেয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাপ্টেন স্মিথ মচ্ছরের বীরত্বের উদাহরণ টানেন। তিনি উল্লেখ করেন, মানবতার প্রতি উৎসর্গীকৃত একজন মানুষের সাহসিকতা যেকোনো অন্ধ ঘৃণা ও সন্ত্রাসের শক্তিকে সহজেই পরাস্ত করতে পারে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে ভারত যে সর্বদা নিজের অখণ্ডতা ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় আপসহীন, তা আজকের এই মঞ্চ থেকে ফের একবার বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট করে দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।