জিডিপির দিন শেষ! মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে অভিনব ‘আনন্দম’ বিভাগ আনছে রাজ্য সরকার

ভুটানের চতুর্থ রাজা জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুক ১৯৭২ সালে প্রথম ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ (জিএনএইচ) বা মোট জাতীয় সুখ সূচকের ধারণা দিয়েছিলেন। এবার সেই বিশ্বখ্যাত ভাবনাকেই বাস্তবায়িত করতে চলেছে কেরল সরকার। মানুষের জীবনে সুখ ও মানসিক প্রশান্তি ফেরাতে রাজ্যে একটি বিশেষ ‘খুশি বিভাগ’ বা ‘আনন্দম’ বিভাগ তৈরির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্লোবাল মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের মাপকাঠিতে জিডিপির পাশাপাশি মানুষের আনন্দ ও স্বস্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় স্বশাসন মন্ত্রকের অধীনে গঠিত হতে চলা এই নতুন বিভাগের মূল কাজ হবে নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও খুশি ছড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প সাধারণ মানুষের জীবনে ঠিক কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তার নিয়মিত মূল্যায়ন করবে এই বিভাগ। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় স্বশাসন মন্ত্রী কেএম শাজি জানিয়েছেন যে, মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আনন্দ বা সুখ লাভ করা। তাই কেবল আর্থিক অগ্রগতি বা জিডিপি দিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নতি মাপা যায় না। এই ভাবনা থেকেই ‘আনন্দম’ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েত এবং স্থানীয় সংস্থায় মানুষের পারস্পরিক মেলামেশা ও কথা বলার জন্য বিশেষ ‘হ্যাপিনেস সেন্টার’ বা মিলনক্ষেত্র গড়ে তোলা হবে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এমজি ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল সায়েন্সেস ডিরেক্টর দিনেজন ভি.-র মতে, কেবল সরকারি নথিপত্র বা কাগজকলমের মারপ্যাচে মানুষের জীবন আনন্দময় করে তোলা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাজ্জাদ ইব্রাহিমের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা বড় প্রভাব পড়বে না। তা সত্ত্বেও, প্রথাগত উন্নয়নের বাইরে এসে মানুষের মানসিক সুখকে প্রাধান্য দেওয়ার এই সাহসী উদ্যোগ এই মুহূর্তে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।