সৌদি আরবের অর্থনীতিতে মারাত্মক আঘাত! অরামকো হেডকোয়ার্টারে হুতিদের ভয়াবহ মিসাইল হামলা

সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আতঙ্ক আজ ভয়ঙ্কর বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সরাসরি সৌদি আরবের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি ‘অরামকো’-র সদর দপ্তরে ধ্বংসাত্মক মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ধহরান শহরের অরামকো কমপ্লেক্সে এই আঘাতের ফলে প্রশাসনিক ভবনে সীমিত আকারের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি ফুয়েল ডিপোতে তীব্র বিমান হামলা চালায়, যার বদলা হিসেবেই হুতিরা রিয়াদ বিমানবন্দর ও অরামকোকে টার্গেট করেছে বলে জানিয়েছে। রাজধানী রিয়াদের আকাশে মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় খসে পড়া মাবলার আঘাতে ৪ জন সাধারণ নাগরিকের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এই চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিিয়েভা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, এই বর্ধিত সংঘর্ষ বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে অত্যন্ত নেতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠকে সৌদি ক্যাবিনেট কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, রিয়াদ বিমানবন্দর হামলাসহ সাম্প্রতিক সমস্ত আগ্রাসনের চড়া মূল্য হুতিদের চোকাতে হবে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক মার্কিন ও পশ্চিমা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রসজ্জিত থাকা সত্ত্বেও সৌদি বাহিনী হুতিদের অপ্রচলিত ড্রোন ও কম খরচের অস্ত্রের সামনে বড় ধাক্কা খাচ্ছে। অতীতে ইয়েমেনে দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধ এবং গোপন সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরির কারণে হুতি যোদ্ধারা কৌশলগতভাবে অনেক এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি সমর্থিত সেনাদল খোলা মরুভূমি এবং খন্দকে বা বারে বারে ড্রোন হামলার মুখে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। হুতিদের নিখুঁত স্পট-পয়েন্ট ড্রোন হামলায় আনুগাডেড বোমা সরাসরি ট্রेंच ও বাঙ্কারের ওপর আছড়ে পড়ায় আধুনিক বর্ম ও সুরক্ষিত সামরিক ছাউনিগুলো এখন সেনাদের জীবন্ত কবরে পরিণত হয়েছে। আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত এই অনবরত বারুদি তাণ্ডবের মুখে টিকতে না পেরে সৌদিপন্থী সেনারা অস্ত্র ফেলে খোলা মরুভূমিতে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যে শক্তিশালী সামরিক শক্তির অহংকারে সৌদি আরব ইয়েমেনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা করেছিল, আজ সেই সুসজ্জিত বাহিনীই হুতিদের আগ্রাসী ড্রোন ওয়ারফেয়ারের সামনে দিশেহারা ও পস্ত। বিমান থেকে হাজার হাজার টন বোমা ফেলা সত্ত্বেও হুতিদের সুসংগঠিত গেরিলা কৌশল এবং আত্মঘাতী ড্রোন হানার জবাব দিতে হিমশিম খাচ্ছে রিয়াদ। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ যে এখন আরও বেশি ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক মোড় নিতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।