“আমাদের মহিলাদের ধর্ষণ করা হয়েছে, বাড়ি ভাঙা হয়েছে!” গণনার আগে পুরোনো ক্ষত মনে করিয়ে বিস্ফোরক শমীক

আগামীকাল সোমবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলাফল। কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ঠিক আগেই এক বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার আর ২০২১ সালের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। গণনার প্রাক্কালে বিজেপি কর্মীদের ‘বদলা’ নয়, বরং অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পুরনো ক্ষতে প্রলেপ নয়, হুঁশিয়ারি গণনা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “২০২১-এর ভোট-পরবর্তী হিংসায় আমাদের বহু কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আমাদের পরিবারের মহিলারাই ধর্ষিতা হয়েছেন। জেসিবি দিয়ে কর্মীদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বহু মানুষকে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।” তিনি স্পষ্ট করেন, জয় আসুক বা হার—এবার কর্মীদের নিরাপত্তা এবং সংহতিই দলের কাছে অগ্রাধিকার।

গণনা কেন্দ্রের বাইরে ‘অবাঞ্ছিত’ জমায়েত? শমীকের আরও দাবি, আগামীকাল গণনার দিন বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় এখনও পর্যন্ত আমরা খবর পাচ্ছি যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল মরিয়া হয়ে কিছু অবাঞ্ছিত মানুষকে জড়ো করছে।” তাঁর আশঙ্কা, ফল ঘোষণার সময় বা পরে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে এলাকা। তাই বিজেপি কর্মীদের কোনো প্ররোচনায় পা না দিয়ে গণনার প্রতিটি স্তরে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সুরক্ষা এবং প্রস্তুতি এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে গণনা সম্পন্ন হলেও, বিজেপি নেতৃত্ব কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। শমীকের কথায়, এবারের লড়াই কেবল ভোটের নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার। তিনি দলীয় কর্মীদের সাফ জানিয়েছেন, কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে সরাসরি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে হবে।

রাজ্যের ২৯৩টি কেন্দ্রে আগামীকাল ভাগ্য নির্ধারণ। তার আগে শমীক ভট্টাচার্যের এই বার্তা আদতে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি এক চরম সতর্কবার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলে। শেষ পর্যন্ত কালকের ফলাফল ঘোষণার পর বাংলার পরিস্থিতি শান্ত থাকে কি না, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy