আমফানে ৪৭ কোটির লুট! অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি ও আইনি চাপ ক্রমেই বাড়ছে। একের পর এক মামলার জাঁতাকলে পিষ্ট ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি, মাটি চুরি থেকে শুরু করে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ—ইতোমধ্যেই তদন্তকারী সংস্থার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমফানের ত্রাণ বণ্টনে ৪৭ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ফের নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের হলো তাঁর বিরুদ্ধে। বিষ্ণুপুর থানার পর এবার ফলতা থানায় তৃণমূল সাংসদ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি।
কী অভিযোগ উঠেছে?
১৯ জুন দায়ের করা এই অভিযোগপত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি নাম রয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খান, তৎকালীন বিধায়ক শঙ্করকুমার নস্কর এবং একাধিক সরকারি আধিকারিক ও বিডিও-র। অভিযোগকারী বিজেপি নেতার দাবি, আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ বাড়ি তৈরি, মৎস্যজীবীদের নৌকা ও জাল কেনার জন্য পাঠানো টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে লুঠ করা হয়েছে। অভিজিৎ দাসের চাঞ্চল্যকর দাবি, একটিমাত্র মোবাইল নম্বরে ২৫-৩০ জনের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে, এমনকি একই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে বহু মানুষের টাকা পাঠানোর ভুয়া তথ্য দেখানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্তদের হক কেড়ে নিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন অভিষেক ও তাঁর ‘গ্যাং’। উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন একইভাবে বিষ্ণুপুর থানায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন তিনি।
তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া:
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এফআইআর বা চার্জশিট মানেই অপরাধী প্রমাণিত হওয়া নয়। এগুলি সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিহিংসার ফসল। বিজেপি স্রেফ রাজনৈতিক বদলা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের অপব্যবহার করছে।”
২০২০ সালের আমফানের মতো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবন এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাড়ি পিছু ২০ হাজার ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ত্রাণ বণ্টনেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে উত্তাল হয়েছে রাজনীতি। একযোগে বিষ্ণুপুর ও ফলতা থানায় দায়ের হওয়া এই জোড়া এফআইআর তৃণমূলের জন্য নতুন করে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের নজর এখন এই মামলার অগ্রগতির দিকে।