আজই অগ্নিপরীক্ষা! NEET বাতিল কাণ্ডের পর সম্মান বাঁচাতে মরিয়া মোদী সরকার, ২২ লক্ষ ছাত্রের নজর আজ কীসের দিকে?

মে মাসের সেই দুঃসহ স্মৃতি আর দেশজুড়ে তোলপাড় করা প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির পর আজ, রবিবার ২২ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর জন্য ফের এক নতুন অগ্নিপরীক্ষা। ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (NTA) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এবারের পরীক্ষা কেবল একটি সাধারণ মূল্যায়ন নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ও নিজের হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার লড়াই। গত কয়েক মাস ধরে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা যে চরম মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, তার নিবৃত্তি ও ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ এখন সরকারের কাঁধে।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও কড়াকড়ি:
আজ দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে এই পরীক্ষা। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সময় পেয়ে সন্ধে ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষার সুযোগ পাবেন। এনটিএ এবার কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশপথে ভারতীয় বায়ুসেনার সাহায্য নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত জালিয়াতি রুখতে দেশের ৫,৪৪০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৬০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৫১ হাজার ৩১১টি ইলেকট্রনিক জ্যামার বসানো হয়েছে। ভুয়ো পরীক্ষার্থী আটকাতে বায়োমেট্রিক ও ফেস অথেনটিকেশন ব্যবস্থাকে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৯ হাজার কর্মীকে তল্লাশি বা ফ্রিস্কিংয়ের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রতি কেন্দ্রে ৪০-৫০ জন পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
বিভ্রান্তি ও ব্যবস্থাপনা:
পরীক্ষার আগের দিন নাগপুরের ছাত্র আবদুল্লাহর অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ‘আবু ধাবি’র নাম আসায় ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। তবে এনটিএ দ্রুত বিষয়টি সংশোধন করে ছাত্রটির জন্য নাগপুরেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। এনটিএ-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে, এর পরে কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কোনো রকম গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রাজনৈতিক উত্তাপ:
পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদও তুঙ্গে। বিরোধী দলগুলো প্রশ্নফাঁসের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করে লাগাতার বিক্ষোভ চালাচ্ছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “পড়ুয়ারা চরম মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেছে। দয়া করে নিশ্চিত করুন যেন এবার কোনো গোলমাল না হয়।” সব মিলিয়ে, এবারের রি-নিট বা পুনঃপরীক্ষা শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার চেয়েও অনেক বেশি—এটি কোটি কোটি মানুষের আস্থার পরীক্ষা। এখন দেখার, এই কঠোর নিরাপত্তা ও সতর্কতার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় কি না।