আম আদমি পার্টির (AAP) অন্দরে বড়সড় ভাঙনের জল্পনা এবার কার্যত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজ্যসভা সাংসদ হরভজন সিংয়ের সমস্ত সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিল পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান সরকার। রাঘব চাড্ডার বিজেপি গমনের পর থেকেই আপ-এর অন্দরে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, ভাজ্জির নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়াকে তারই পরিণাম বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নিরাপত্তা কেড়ে নিল পাঞ্জাব পুলিশ:
হরভজন সিংয়ের ব্যক্তিগত সহকারী মনদীপ সিং জানিয়েছেন, কোনও আগাম নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ তাঁর নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগে তাঁর বাসভবনের বাইরে প্রায় ১০ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকতেন এবং তাঁর যাতায়াতের জন্য সরকারি পাইলট কার ছিল। শনিবার রাত থেকেই সেই সমস্ত সুবিধা তুলে নিয়েছে রাজ্য সরকার।
রাঘব চাড্ডার সেই বিস্ফোরক দাবি:
এই ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাঘব চাড্ডার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। চাড্ডা দাবি করেছিলেন যে, আম আদমি পার্টির ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে অন্তত ৭ জন দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তাঁরা বিজেপির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এই তালিকায় হরভজন সিংয়ের নাম শীর্ষে আসতেই নড়েচড়ে বসে কেজরিওয়াল শিবির। হরভজন নিজে এ বিষয়ে মুখ না খুললেও সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে তাঁর দলত্যাগের জল্পনার সিলমোহর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বাড়ির সামনে ‘বিশ্বাসঘাতক’ লেখা স্প্রে-পেইন্ট:
শনিবার হরভজন সিংয়ের বাড়ির বাইরের দেওয়ালে কালো কালিতে “বিশ্বাসঘাতক” লিখে দিয়ে যায় একদল বিক্ষোভকারী। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই একদল লোক স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে এই কুরুচিকর মন্তব্য লিখছে, অথচ পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাশাপাশি আপ কর্মীরা কালো ব্যাজ পরে বিক্ষোভও প্রদর্শন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী মানের কড়া হুঁশিয়ারি:
বিদ্রোহী সাংসদদের সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বলেন, “এই নেতারা শুধু দলের নয়, পাঞ্জাবের মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন।” মানের অভিযোগ, বিজেপি সাধারণ মানুষকে ভাঙার জন্য লোভ ও চাপের কৌশল ব্যবহার করছে। তিনি সাফ জানান, আপ কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির চেয়ে বড় দল এবং এই দলত্যাগে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরভজনের নিরাপত্তা প্রত্যাহার আসলে একটি কড়া বার্তা—দলের অনুগত না থাকলে প্রশাসনিক সুরক্ষা মিলবে না।





