দিল্লির নির্বাচন সদনে সোমবার যা ঘটল, তা ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিরল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেষ কুমারের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে অগ্নিশর্মা হয়ে বেরিয়ে এলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি ‘বিজেপির দলদাস’ এবং ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ করার পাশাপাশি প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের উদাহরণ টেনে কমিশনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
“হাল ধনখড়ের মতো হবে”: এদিন বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি ওনাকে (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) স্পষ্ট বলেছি, আপনারও হাল ধনখড়ের মতো হবে। উনি আমাদের রাজ্যে রাজ্যপাল ছিলেন, আমি তাঁকে সম্মান করতাম। কিন্তু সব কিছুর একটা সীমা থাকে।” মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট— যেভাবে জগদীপ ধনখড় রাজ্যপাল থাকাকালীন রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনও এখন সেই পথেই হাঁটছে।
২ কোটি ভোটারের ভবিষ্যৎ ও এসআইআর বিতর্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার নামে বাংলা থেকে প্রায় ২ কোটি মানুষের নাম ‘মিসম্যাচ’ অজুহাতে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর দাবি, “হরিয়ানা, বিহার এবং মহারাষ্ট্রে এই কারচুপি করেই বিজেপি জিতেছে। বাংলায় কোনও কিছু অ্যালাও করছে না। কার্ডের মালা হয়ে গিয়েছে। এত মানুষের মৃত্যুর দায় কার? জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে এই দায় নিতে হবে।”
বৈঠক বয়কট ও ‘গার্বেজ অফ লাইজ’: এদিন বৈঠকের পরিবেশ এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাঝপথেই বেরিয়ে আসেন। তিনি বলেন, “উনি একজন মিথ্যাবাদী। যা বলছেন সব মিথ্যা। গার্বেজ অফ লাইজ! আমি বললাম বাইরে ক্যামেরাম্যানকে কেন অ্যালাও করলেন না? আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে আপনার কাছে জাস্টিস পেতে এসেছিলাম।” কমিশন তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভুয়ো ভোটার যোগ করার যে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে, তাকেও কড়া ভাষায় নস্যাৎ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে যখন কমিশন দাবি করছে তারা নিয়ম মেনেই কাজ করছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, “প্রয়োজনে ১ লক্ষ মানুষকে আমি দিল্লিতে নিয়ে আসব।” সব মিলিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে দিল্লি বনাম নবান্নের লড়াই এখন তুঙ্গে।