শহুরে জীবনে জায়গার অভাব আর মাটির ঝক্কি এড়াতে অনেকেই এখন ‘সোয়েললেস গার্ডেনিং’ বা মাটিহীন চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন। নারকেলের ছোবড়া (কোকোপিট), জল কিংবা পাথরের কুচিতে গাছ বড় করে তোলা শুনতে সহজ মনে হলেও, এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। সামান্য ভুলের কারণে আপনার শখের গাছগুলো কয়েক দিনেই শুকিয়ে যেতে পারে। মাটি ছাড়া বাগান করার ক্ষেত্রে যে ৫টি বিষয় আপনার জানা আবশ্যিক:
প্রথমত, জলের পিএইচ (pH) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ। মাটিতে পিএইচ কিছুটা এদিক-ওদিক হলে মাটি তা সয়ে নেয়, কিন্তু মাটিহীন চাষে জলের পিএইচ ৫.৫ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে না থাকলে গাছ পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, পুষ্টির সঠিক মিশ্রণ। যেহেতু মাটি নেই, তাই গাছকে আলাদাভাবে লিকুইড ফার্টিলাইজার দিতে হয়। এর পরিমাণ বেশি হলে শিকড় পুড়ে যাবে, আবার কম হলে গাছের বৃদ্ধি থমকে যাবে। তৃতীয়ত, অক্সিজেন সরবরাহ। বিশেষ করে হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে জলের ভেতর অক্সিজেনের অভাব হলে শিকড়ে পচন ধরতে পারে।
চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাপমাত্রা। মাটির একটি স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকে, যা জল বা কোকোপিটের ক্ষেত্রে কম। তাই সরাসরি কড়া রোদে জলের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে গাছ মারা যেতে পারে। সবশেষে, পরিচ্ছন্নতা। মাটিহীন চাষে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। তাই ব্যবহৃত পাত্র এবং জল সবসময় পরিষ্কার রাখা জরুরি। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনার ছাদবাগান বা ঘরের কোণ হয়ে উঠবে সবুজ সতেজ।