আধার কার্ড কি নাগরিকত্বের প্রমাণ? এই প্রশ্ন নিয়ে ফের একবার বড় মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিহারের ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা সংক্রান্ত একটি মামলায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আধার কার্ড কখনই নাগরিকত্বের একমাত্র প্রমাণ হতে পারে না। এই মন্তব্যের ফলে নির্বাচন কমিশনের অস্বস্তি বেড়েছে, কারণ কমিশন ভোটার তালিকায় আধার সংযুক্তিকরণের ওপর জোর দিচ্ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ কী?
বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আধার আইন অনুসারে আধারের মর্যাদা নির্ধারিত হয়েছে এবং তা বাড়ানো সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য আধার অনেক নথির মধ্যে একটি হতে পারে, কিন্তু এটিকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। আধার আইনের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আধার নম্বর বা এর অথেনটিকেশন কখনওই নাগরিকত্ব বা বাসস্থানের প্রমাণ নয়।
নির্বাচন কমিশনের সওয়াল ও পাল্টা প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী সওয়াল করে বলেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আধারকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিহারের কিছু জেলায় আধার সংযুক্তিকরণের হার ১৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ভুয়ো নামের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইনজীবী আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকার বহুবার অভিযোগ করেছে যে, অবৈধভাবে প্রবেশ করা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিরা আধার কার্ড তৈরি করেছে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে, কারণ আধারকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছিল। এখন এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আধার কেবল একটি পরিচয়পত্র, কোনোভাবেই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।