আদিবাসী শিল্পীদের হাতের কাজ এবার আমেরিকায়! বাঁধনা পরবের শিল্পে সেজে উঠছে আটলান্টার দুর্গা!

বাংলার বাঁধনা পরবের রঙিন শিল্প এখন সুদূর আমেরিকার আটলান্টায়। আসানসোলের আদিবাসী শিল্পীরা তাদের নিজস্ব শৈলীতে তৈরি নানা ডিজাইনের শিল্পকর্মে সাজিয়ে তুলছেন আটলান্টার কর পরিবারের দুর্গাকে। এই অভিনব উদ্যোগ কেবল শিল্প বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর মাধ্যমে বেশ কয়েকটি পিছিয়ে থাকা আদিবাসী পরিবার আর্থিক সহায়তাও পেয়েছে।

আমেরিকার আটলান্টায় বসবাসকারী দম্পতি শান্তনু কর এবং ইন্দ্রাণী কর, চার বছর ধরে নিজেদের বাড়িতে দুর্গাপূজার আয়োজন করছেন। তারা চেয়েছিলেন, তাদের দুর্গাকে এক বিশেষ রূপ দিতে এবং একই সঙ্গে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। এই ভাবনা থেকে তারা আসানসোলের সমাজসেবী চন্দ্রশেখর কুণ্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

শিল্পকলার মেলবন্ধন ও প্রশিক্ষণ
চন্দ্রশেখর কুণ্ডু দীর্ঘদিন ধরে আসানসোলের পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনিই কর দম্পতিকে আদিবাসীদের হাতে তৈরি অসাধারণ শিল্পকলার কথা জানান। এই শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ হয়ে কর দম্পতি সিদ্ধান্ত নেন, পলাশডিহা-সহ আশেপাশের এলাকার আদিবাসী শিল্পীদের দিয়েই তারা নিজেদের দুর্গা সাজাবেন।

মাটির দেওয়ালে ছবি আঁকতে অভ্যস্ত আদিবাসী শিল্পীদের দুর্গা প্রতিমার মুকুট ও গয়না তৈরির জন্য আসানসোলের দুই বিশিষ্ট শিল্পী সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা রায় চৌধুরী বিনামূল্যে তাদের প্রশিক্ষণ দেন। চন্দ্রিমা রায় চৌধুরী বলেন, “ওরা এমনিতেই দারুণ ছবি আঁকে। আমরা শুধু ওদের আর্ট ফর্মটাকে দুর্গার গয়না এবং অন্যান্য শিল্পকর্মে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটা শিখিয়েছি।”

কাজের মাধ্যমে সম্মান ও স্বনির্ভরতা
আটলান্টা থেকে শান্তনু কর ইটিভি ভারতকে ফোনে জানান, তারা শুধু দান করতে চাননি, বরং কাজের মাধ্যমে এই শিল্পীদের সম্মান দিতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, “অযথা দান দিলে মানুষের যোগ্যতাকে অস্বীকার করা হয়। তাই তাদের শিল্পকর্মকে সম্মান দিয়ে আমরা পাশে থেকেছি।” তার স্ত্রী ইন্দ্রাণী কর, যিনি নিজেও একজন শিল্পী, জানান যে এই বছর পুজোয় তাদের আনন্দ আরও বেশি কারণ তারা একদিকে যেমন মায়ের রূপকে অনন্য করে তুলতে পারছেন, তেমনই প্রান্তিক অঞ্চলের এই মায়েদের স্বনির্ভর হতে সাহায্য করতে পারছেন।

আদিবাসী শিল্পীরাও এই সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত। সঞ্জলি সরেন নামে এক যুবতী জানান, “আমাদের এই কাজ বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, এটা ভেবেই খুব আনন্দ হচ্ছে। স্যারের জন্য আমরা এমন সুযোগ পেলাম। খুব মন দিয়ে কাজ করেছি। দিদিরাও আমাদের অনেক প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।” চন্দ্রশেখর কুণ্ডু বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন শিল্পের আদান-প্রদান ঘটায়, তেমনই পিছিয়ে পড়া এই নারীরা স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন। এটাই আসলে আসল মায়ের পুজো।