আদালতের নির্দেশ মানতে গিয়েই ভয়ঙ্কর বিপদে তৃণমূল নেত্রী প্রণয়িতা দাস! গাড়ি ঘিরে চলল জুতোপেটা ও মারধর

জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর বৃহস্পতিবার দাপুটে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের মেয়ে তথা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রণয়িতা দাস কোতোয়ালি থানায় হাজিরা দিতে পৌঁছতেই স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতার তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে থানায় এলেও, থানা চত্বরে আগে থেকেই উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা চড়াও হন তাঁর ওপর। প্রণয়িতার গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং উত্তেজিত জনতা তাঁর গাড়ির ওপর উঠে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গাড়ি থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রণয়িতাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং বিক্ষোভকারীরা তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করতে শুরু করেন। পুলিশ প্রশাসনের শত চেষ্টার পরেও তাঁকে নিরাপদে থানার ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়ে যেতে রীতিমতো কালঘাম ছুটে যায়।
উল্লেখ্য, অতীতে জলপাইগুড়ি জেলার একসময়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন কৃষ্ণ দাস। তাঁর বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস চালানোর বহু গুরুতর অভিযোগ ছিল। এমনকি গত বিধানসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৭৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। অভিযোগ রয়েছে, ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক পরের দিনই কৃষ্ণ দাসের সশস্ত্র দলবল স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালায়। ওই সহিংস ঘটনার নেপথ্যে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে কৃষ্ণ দাস এবং তাঁর মেয়ে প্রণয়িতা দাসের নাম জড়ায়। অভিযোগ ওঠে যে, সেই রাজনৈতিক হামলায় কমপক্ষে ছ’জন বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল।
এই নৃশংস হামলার ঘটনার পর থেকেই কৃষ্ণ দাস ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গা ঢাকা দেন এবং পুলিশি এড়াতে তারা বাড়িছাড়া হন। কোতোয়ালি থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট ধারায় গুরুতর অভিযোগ দায়ের হওয়ায় পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারি এড়ানোর আইনি পথ খুঁজতে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন, যেখান থেকে আদালত প্রণয়িতাকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশকে সহযোগিতা করার শর্ত দেয়। আদালতের সেই নির্দিষ্ট নির্দেশ মেনেই এদিন তিনি কোতোয়ালি থানায় হাজির হন। কিন্তু তাঁর আসার খবর চাউর হতেই এলাকার যে সমস্ত মানুষ অতীতে এই নেতার হাতে নানাভাবে নির্যাতিত ও অত্যাচারিত হয়েছেন, তাঁরা দলবেঁধে থানা চত্বরে এসে জড়ো হন এবং আকস্মিক এই গণ-বিক্ষোভ ফেটে পড়ে।
এই চরম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেত্রী টিনা গঙ্গোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “এটি মূলত দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এতদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর ওরা যে চরম অত্যাচার ও সন্ত্রাস চালিয়েছে, আজ সাধারণ মানুষ তার উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে। দিনের পর দিন মানুষকে মানুষ বলে গণ্য না করে যেভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল, আজ তার অনিবার্য পরিণতি হিসেবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই জনরোষ থামানো কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।” তবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বা দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ বর্তমানে গোটা পরিস্থিতি কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।