বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রাইড-হেইলিং প্ল্যাটফর্ম উবার (Uber) এবার ভারতে তাদের সাম্রাজ্য আরও বিস্তার করতে চলেছে। বৃহস্পতিবার সংস্থার পক্ষ থেকে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানানো হয়েছে, ভারতের আইটি হাব হিসেবে পরিচিত হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুতে দুটি বিশাল নতুন ক্যাম্পাস তৈরি করতে চলেছে তারা। এই দুটি অফিস শুধুমাত্র ভারতের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে উবারের প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
সংস্থার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই দুটি মেগা ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ সচল হয়ে যাবে। বর্তমানে ভারতে উবারের প্রায় ৩,৫০০ কর্মী কাজ করছেন। তবে নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের জোয়ার আসতে চলেছে। উবার জানিয়েছে, নতুন দুটি ক্যাম্পাস মিলিয়ে মোট ৯,৬০০ জন কর্মী কাজ করার সুযোগ পাবেন। মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা উবার নিয়েছে, তার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রিত হবে ভারতের এই দুই শহর থেকে।
সম্প্রতি উবারের সিইও দারা খোসরোশাহী ভারত সফরে এসে চমক দিয়েছিলেন। দিল্লি মেট্রোতে সাধারণ মানুষের মতো সফর করার পাশাপাশি তিনি আমেদাবাদে গিয়ে আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর খসরোশাহী ঘোষণা করেন যে, আদানি গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতে তারা প্রথম ‘ডাটা সেন্টার’ তৈরি করতে চলেছেন। যদিও সেই ডাটা সেন্টারটি ঠিক কোন শহরে হবে, তা এখনও খোলসা করেনি সংস্থাটি। তবে হায়দরাবাদের হাইটেক সিটি ও বেঙ্গালুরুতে অফিসের বিষয়ে তারা নিশ্চিত।
ভারতে উবারের এই বিনিয়োগ এমন এক সময়ে আসছে যখন তারা স্থানীয় প্রতিযোগিতার মুখে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এককালে উবারের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল ওলা (Ola), কিন্তু বর্তমান বাজারে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে দ্রুতগতিতে বেড়ে ওঠা অ্যাপ ‘র্যাপিডো’ (Rapido)। এছাড়া ভারতের বাজারে সাপ্লাই-চেইন সমস্যা, বিভিন্ন অ্যাপের মধ্যে ভাড়ার তারতম্য এবং চালকদের উচ্চ ইনসেনটিভ দেওয়ার মতো একাধিক বাধা রয়েছে। উবার কর্তৃপক্ষ অবশ্য আত্মবিশ্বাসী যে, এই সমস্ত প্রযুক্তিগত ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে তারা ভারতীয় গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে।





