আট মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখেই চিরবিদায়! চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডের গ্যাস দুর্ঘটনায় কেড়ে নিল কচি প্রাণের স্বপ্ন

গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে কাজে গিয়েছিলেন পলাশ, সীতাকুণ্ডের বিষাক্ত গ্যাস কেড়ে নিল তরতাজা প্রাণ

মাত্র এক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। ঘরে আট মাসের গর্ভবতী স্ত্রী। কিন্তু শুক্রবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুরনো জাহাজের বিষাক্ত গ্যাসের গ্রাসে প্রাণ হারানো পলাশ জলদাসের আর প্রিয়তমার কাছে ফেরা হলো না। দেখা হলো না নিজের অনাগত সন্তানকেও।

নিহত পলাশের ভাই শুভ জলদাস গণমাধ্যমকে জানান, তাদের বাবা দিনমজুর এবং তিনি নিজে একটি সেলুনে কাজ করেন। তাদের পরিবারে পলাশ ছিলেন তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তৃতীয়। জাহাজে কাটার ম্যানের কাজ করতেন তিনি। যে শিপইয়ার্ডে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তার কাছাকাছিই পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসবাস করতেন। শুভ আক্ষেপ করে বলেন, তারা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি ভাইয়ের এই করুণ পরিণতি হবে।

অক্সিজেন দিতে গিয়েই মর্মান্তিক পরিণতি সাজ্জাদের

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অপর এক যুবক হলেন ২০ বছর বয়সের মতিউর রহমান সাজ্জাদ। তিনি মূলত জাহাজটিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করতে গিয়েছিলেন। অক্সিজেন বহনকারী গাড়ির হেলপার হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

সাজ্জাদের মামাতো ভাই মো. শাহজাহান জানান, অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার সময় সাজ্জাদ একেবারে সেই স্থানে চলে গিয়েছিল যেখানে জাহাজ কাটার কাজ চলছিল। দুর্ঘটনার মুহূর্তে সেখান থেকে বের হতে না পেরে ভেতরেই আটকে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদের বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ এবং তিন বোনের মধ্যে মেজো বোন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবারটি। সাজ্জাদ তিন বছর ধরে এই কাজ করছিল যাতে পুরো পরিবারটির অন্নসংস্থান চলত। পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত আয়ের একটি স্থায়ী ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের তৎপরতা ও দাফন সম্পন্ন

সীতাকুণ্ড উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, এই দুর্ঘটনায় নিহত মোট ৯ জনের দাফন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত অপর ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুরনো জাহাজের নিরাপত্তা ও ইয়ার্ডগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।