আট বছরের অধ্যায় শেষ, হঠাৎ কেন মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের? জানালেন কারণ

দীর্ঘদিনের জল্পনা অবশেষে সত্যি হলো। কলকাতার মেয়র পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন তিনি।

দায়িত্ব ছাড়ার কারণ ও অতীত স্মৃতি নিজের বিদায়বেলায় কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, ২০১৮ সালে তৎকালীন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ইস্তফা দেওয়ার পর কাউন্সিলরদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে এই চেয়ারে বসানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষচন্দ্র বসু বা বিধানচন্দ্র রায়ের মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা আমার আছে কি না জানি না। তবে আমি আমার সাধ্যমতো দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।’’

কোভিড মোকাবিলাই ছিল জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ মেয়র হিসেবে নিজের দীর্ঘ পথচলার কথা বলতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কোভিড মহামারীর সময়কে। তিনি জানান, সেই সময় কর্পোরেশনের কর্মীরা যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঞ্জাল পরিষ্কার এবং মানুষের সেবা করেছেন, তা ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। তার কথায়, ‘‘কোভিডের সময় ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা ছিল, তখন একজন মহানাগরিক হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম। মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি আমার জীবনও যেত, আমি তাতে পিছপা হতাম না।’’

রাজনৈতিক জীবন ও কাউন্সিলর হিসেবে যাত্রা উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে টানা জয়ী হওয়ার পর, ২০১৮ সালে তিনি মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০২১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। তবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার মাস পাঁচ আগেই তার এই ইস্তফা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জল্পনার প্রেক্ষাপট কিছুদিন আগেই তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন যে ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছেন এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে সম্মতি দিয়েছেন। যদিও শুরুতে সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছিলেন ফিরহাদ নিজে। অবশেষে শনিবার যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করলেন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy