আট থেকে আশি, কেউ বাদ যায়নি টার্গেট থেকে! বাংলাদেশের যুবক প্রান্ত রায়ের দোকানে জেরক্সের আড়ালে চলত ভয়াবহ সাইবার অপরাধ!

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে এলাকার মহিলাদের ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর ছবি তৈরি করার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল হুগলির কোন্নগর। অভিযুক্ত যুবক দিনের পর দিন এই ঘৃণ্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় মহিলারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্তকে জুতোপেটা করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এই ঘটনাটি ঘটেছে কোন্নগর কানাইপুর বাসাই অটো স্ট্যান্ড এলাকায়।

📸 জেরক্সের আড়ালে চলত কারবার
অভিযুক্ত যুবকের নাম প্রান্ত রায়, যার কানাইপুর বাসাই অটো স্ট্যান্ড এলাকায় একটি মুদিখানা দোকান রয়েছে এবং সেখানে জেরক্সও করা হয়।

অপরাধের ধরন: অভিযোগ, যে মহিলারা দোকানে আসতেন, অভিযুক্ত তাদের ছবি রেখে দিত। এরপর সেই ছবি ব্যবহার করে এআই (AI) প্রযুক্তিতে আপত্তিকর ছবি বানানো হতো।

টার্গেট: অভিযুক্তের টার্গেটে ছিল আট থেকে আশি বছর বয়সী সব ধরনের মহিলারা। তার একাধিক সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর সেই ছবি ছড়ানো হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উন্মোচন: অভিযুক্তের এক সময়ের সহপাঠীরা তার একাধিক সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে বিষয়টি জানতে পারেন, যার পরই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

আজ বিষয়টি জানাজানি হতেই একদল যুবতী অভিযুক্ত যুবককে জুতোপেটা করতে করতে স্থানীয় কানাইপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। যদিও অভিযুক্ত এখনও পর্যন্ত নিজের পক্ষে কিছুই বলেনি।

🇧🇩 ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ আছে’
ভুক্তভোগী তরুণীদের একজন জানান, “কয়েক বছর আগে প্রান্ত বাংলাদেশ থেকে এসেছে। সেই সময় থেকে আমরা স্কুলের বন্ধু ছিলাম। ও বাচ্চা থেকে বয়স্ক মহিলাদের আপত্তিকর ছবি এআই দিয়ে বিকৃত করেছে।”

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শম্পা চক্রবর্তীও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ছেলেটার পরিচয় যা পাচ্ছি তাতে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। প্রচুর মেয়ের ছবি তুলে এসব করেছে, পুলিশ প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিক।”

এলাকার মহিলারা পুলিশ ফাঁড়িতে জমায়েত হয়ে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। অভিযুক্তের ট্যাব, ল্যাপটপ থেকে অনেক আধার কার্ডের ছবিও পাওয়া গেছে, যা পুলিশ উদ্ধার করেছে।