তেলের দাম কমলেও স্বস্তি নেই! শীঘ্রই বাড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম?

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় সাধারণ মানুষ আশা করেছিলেন, এবার হয়তো মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমবে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বস্তির দিন এখনও দূর অস্ত। জ্বালানির দাম কমলেও মুদ্রাস্ফীতির নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে এখন সামনে চলে এসেছে ‘দুর্বল বর্ষা’।

বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির খতিয়ান: মে মাসে দেশের খুচরা মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ৩.৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে (এপ্রিলে যা ছিল ৩.৪৮ শতাংশ)। একইসঙ্গে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৯.৬৮ শতাংশে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৪.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.১ শতাংশ করেছে।

তেল বনাম বর্ষা: আসল হুমকি কোনটি? এতদিন মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ হিসেবে অপরিশোধিত তেলের দামকে দায়ী করা হচ্ছিল। কিন্তু ইনফোমেরিকস রেটিংস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ডঃ মনোরঞ্জন শর্মা জানাচ্ছেন, তেলের চেয়েও বড় ঝুঁকি এখন ভারতের কৃষি-অর্থনীতি ও বর্ষা। তাঁর মতে:

  • খাদ্যপণ্যের ভূমিকা: ভারতের মুদ্রাস্ফীতির হিসাব-নিকাশে জ্বালানির চেয়ে খাদ্যদ্রব্যের প্রভাব অনেক বেশি।

  • কৃষিনির্ভরতা: দেশের প্রায় অর্ধেক কৃষি জমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টির ঘাটতি হলে ডাল, তৈলবীজ, সবজি ও ফলের উৎপাদনে সরাসরি টান পড়বে।

  • সবজির বাজারে প্রভাব: জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, কিন্তু বৃষ্টির অভাব হলে সরাসরি সবজি ও আনাজের উৎপাদন কমে যায়। এতে মুদি দোকান থেকে সবজির বাজার—সব জায়গাতেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটায় বড়সড় প্রভাব পড়বে।

কেন এই সতর্কতা? বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তা পরোক্ষভাবে দাম বাড়ায়। কিন্তু দুর্বল বর্ষা সরাসরি খাদ্যশস্যের জোগান কমিয়ে দেয়, যা অতি দ্রুত মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। ডঃ শর্মার আশঙ্কা, যদি বৃষ্টি কম হয়, তবে কৃষি পণ্যের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পারিবারিক বাজেটকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

উপসংহার: তেলের দামের পতন কিছুটা স্বস্তি দিলেও, বর্ষার অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি আটকাতে এখন তাই বর্ষার ওপরই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা টান পড়বে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।