অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী অধ্যায়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন আরও আক্রমণাত্মক। এবার শত্রু শিবিরের ট্যাঙ্ক বাহিনীকে গুঁড়িয়ে দিতে ভারতীয় বহরে যুক্ত হচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ধ্রুবস্ত্র’। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) দ্বারা নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আসলে ‘হেলিনা’ (Helina)-র উন্নত সংস্করণ, যা হেলিকপ্টার থেকে নিখুঁত নিশানায় শত্রুর যে কোনো অত্যাধুনিক ট্যাঙ্ক ধ্বংস করতে সক্ষম।
কেন ধ্রুবস্ত্র এত ভয়ঙ্কর? এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৃতীয় প্রজন্মের ‘অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল’ (ATGM)। এর সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তি। অর্থাৎ একবার লক্ষ্যবস্তু স্থির করে ছুড়ে দিলে এটি নিজে থেকেই শত্রুকে ধাওয়া করে ধ্বংস করবে। ৫০০ মিটার থেকে ৭ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে থাকা যেকোনো ট্যাঙ্ককে এটি মুহূর্তের মধ্যে কয়লার স্তূপে পরিণত করতে পারে। বিশেষ করে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ট্যাঙ্কের উপরের অংশে (Top Attack) আঘাত হানে, যা সাধারণত সবথেকে দুর্বল হয়।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ: ধ্রুবস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্রটিতে রয়েছে উন্নত ‘ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকার’। এর ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকার কিংবা অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়াতেও এটি শত্রুর অবস্থান খুঁজে বের করতে পারে। এটি প্রায় ৮০০ মিলিমিটার পুরু ইস্পাতের পাত ভেদ করার ক্ষমতা রাখে, যা বিশ্বের খুব কম মিসাইলেরই আছে।
আকাশপথের প্রহরী: হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) দ্বারা নির্মিত ‘রুদ্র’ এবং হালকা যুদ্ধবিমান ‘প্রচণ্ড’ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা যাবে। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল এবং বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বাহিনীকে এটি এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি প্রদান করবে। এ. পি. জে. আব্দুল কালামের হাত ধরে শুরু হওয়া ‘নাগ’ প্রকল্পের এই আধুনিক সংস্করণ ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ধ্রুবস্ত্রের মোতায়েন সীমান্তে শত্রুপক্ষের বিশেষ করে পাকিস্তানের সাঁজোয়া বাহিনীর জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়াবে।





