আকাশে বড়সড় বিপদের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কপ্টার! মেরিন ওয়ানের সঙ্গে যাত্রীবাহী বিমানের সংঘর্ষের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত!

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ এবং একটি সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে ওয়াশিংটনের আকাশে নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্বের চেয়ে বিপজ্জনকভাবে কম ব্যবধান তৈরি হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। গত ৪ আগস্ট ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দর থেকে টেক অফ করা একটি কমার্শিয়াল ফ্লাইট এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের বহনকারী মেরিন ওয়ানের মধ্যে সঠিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় না থাকার গুরুতর ঘটনাটি বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এএফপির বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি গত ৪ আগস্ট রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট বা ডিসিএ থেকে উড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে মেরিন ওয়ানের মধ্যকার ‘লস অফ সেপারেশন’ অর্থাৎ নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার এই স্পর্শকাতর ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি, ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ-ও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো ঘটনাটি পর্যালোচনা করে দেখছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের ব্যস্ত আকাশে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সঙ্গে অত্যন্ত অস্পষ্ট যোগাযোগের ফলস্বরূপ মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারটি একটি যাত্রীবাহী বিমানের এক মাইলেরও কম দূরত্বের অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যবধানে চলে এসেছিল। এই ঘটনার জেরে মার্কিন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে দাবি করা হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এই আকাশযাত্রার সময় কখনই কোনো ধরনের বিপদের মুখে পড়েননি। এই বিষয়ে সংবাদসংস্থা এএফপি-কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউসের দায়িত্বশীল মুখপাত্র কুশ দেশাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা সমস্ত জল্পনা ও উদ্বেগ জোরালোভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন।

মুখপাত্র দেশাই সাফ জানিয়েছেন যে, মেরিন ওয়ানের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ফ্লাইট পরিচালনা করেন বিশ্বের অন্যতম দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিমান বিশেষজ্ঞরা, এবং পুরো ঘটনার যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামান্যতম বিপদের মধ্যেও ছিলেন না। একই সুর শোনা গিয়েছে এফএএ-র গলাতেও। সংস্থটি এক সরকারি বিবৃতিতে জোর দিয়ে জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট কখনও বিপদের মুখোমুখি হননি, এবং তারা বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে। তদন্তে যে সমস্ত তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এএফপির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে কথিত ‘লস অফ সেপারেশন’ বা দূরত্বের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পুরো সময় জুড়েই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা মেরিন ওয়ানের পাইলট এবং যাত্রীবাহী বিমানের পাইলট—উভয়ের সঙ্গেই নিয়মিত ও সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছিলেন।

তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যে, মেরিন ওয়ান যখন অবতরণের অত্যন্ত সংবেদনশীল পথে অবস্থান করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে কেন অন্য একটি যাত্রীবাহী বিমানকে নিরাপদে টেক অফ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই দুর্ঘটনাপ্রবণ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিশদ তথ্য দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে যে, তদন্তকারীরা মূলত খতিয়ে দেখছেন কেন মেরিন ওয়ান রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণের জন্য এগিয়ে আসার সময় সংশ্লিষ্ট যাত্রীবাহী বিমানটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। অথচ গত বছর বিমানবন্দরের অত্যন্ত কাছেই ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক প্রাণঘাতী মাঝআকাশের সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকেই এ ধরনের চরম গাফিলতি এড়াতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন ও কঠোর নিরাপত্তা প্রক্রিয়া চালু করেছিল।

এপি-র প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সসম্মানে তুলে নিয়ে অ্যান্ড্রুজ এয়ার ফোর্স বেসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সেখান থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্যালিফোর্নিয়া সফরের প্রথম ধাপের জন্য তাঁর নির্ধারিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠার কথা ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিশেষ হেলিকপ্টারটি যখন নির্দিষ্ট বিমানবন্দরের দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছিল, ঠিক সেই সময়ই যাত্রীবাহী বিমানটি রানওয়ে ছেড়ে আকাশে উড়ে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, যাত্রীবাহী বিমানটি মেরিন ওয়ানের তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতার দিকে দ্রুত উঠে যাচ্ছিল, যার ফলে দুটি বিশাল উড়োজাহাজ পরস্পরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের কোনো পথেই ছিল না। এফএএ-র প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে খুব অল্প সময়ের জন্যই নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি, এবং তার ঠিক পরেই দুটি উড়োজাহাজ একে অপরের থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বিশদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী সাধারণত আকাশে চলমান যেকোনো দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে অন্তত ১.৫ মাইল অনুভূমিক দূরত্ব এবং অন্তত ৫০০ ফুট উল্লম্ব দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ঘটনায় সেই নিয়ম লঙ্ঘিত হওয়ায় মার্কিন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।