কলকাতা হাইকোর্টে আইপ্যাক (I-PAC) বনাম ইডির টানটান উত্তেজনাপূর্ণ শুনানিতে আজ চাঞ্চল্যকর মোড় এল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন। ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে ঢুকে নথিপত্র নিয়ে চলে গিয়েছেন, যা আইনত অপরাধ। এই মামলায় হাইকোর্টের শুনানির ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে আলোচনা করা হলো:
মুখ্যমন্ত্রীকে যুক্ত করার দাবি: ইডি জানিয়েছে, তৃণমূলের এই মামলার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জড়িত, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই মামলায় পক্ষভুক্ত বা ‘পার্টি’ করা হোক।
নথি নিয়ে পালানোর অভিযোগ: ইডির আইনজীবীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশিস্থলে অনুপ্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে পালিয়েছেন। এই কাজ বেআইনি ও অসাংবিধানিক।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ: ইডি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই যেহেতু নথি ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তাই তৃণমূলের উচিত তাঁরই বিরুদ্ধে মামলা করা।
ভোটের প্রসঙ্গ: তৃণমূল এই তল্লাশিকে ভোটের সাথে যুক্ত করলেও ইডি প্রশ্ন তুলেছে, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই কেন এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে?
আইপ্যাক বনাম রাজনৈতিক দল: ইডি জানিয়েছে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের অফিসে যায়নি। আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি হয়েছে, যা একটি স্বতন্ত্র সংস্থা।
ঠিকানা বিতর্ক: আদালতে ইডি সওয়াল করে, তৃণমূলের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। অন্য কারও তথ্য কেন অন্য জায়গা থেকে উদ্ধার হবে?
তৃণমূলের পাল্টা তোপ: তৃণমূলের আইনজীবী ইডির আচরণকে ‘গুন্ডামি’ ও ‘অনুপযুক্ত’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের দাবি, ইডি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে।
তথ্য চুরির অভিযোগ: তৃণমূলের দাবি, ভোটের তথ্য চুরি করতেই ইডি এই তৎপরতা দেখাচ্ছে। ইডি যে কোনো নথি বাজেয়াপ্ত করেনি, তা রেকর্ড করার আবেদনও জানায় ঘাসফুল শিবির।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ: শুনানির সময় ইডির আইনজীবী একই কথা বারবার বললে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁকে থামিয়ে দেন এবং অন্যদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন।
মামলার নিষ্পত্তি: সব পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তৃণমূলের মামলার নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। তবে ইডির দায়ের করা বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় সেটি মুলতুবি রাখা হয়েছে।





