আইপিও প্রাইস ১০৬ টাকা, বাজার খুলতেই লাফিয়ে উঠল দাম! বিনিয়োগকারীদের পকেটে এল ঝনঝনিয়া মুনাফা!

আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে যখন বড়সড় পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সেনসেক্স থেকে শুরু করে নিফটি ৫০ পর্যন্ত লাল নিшаনে (নেতিবাচক জোনে) লেনদেন চালাচ্ছে, ঠিক সেই আতঙ্কজনক পরিবেশেও এক নতুন কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের মুখে দারুণ হাসি ফুটিয়েছে। আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘হিমালয় নিউট্রাভেডিক্স’ (Himalaya Nutravedics) আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসই (BSE) এসএমই প্ল্যাটফর্মে দুর্দান্ত আত্মপ্রকাশ করেছে। যেখানে বাজারের বড় বড় হেভিওয়েট শেয়ারগুলো বড়সড় পতনের মুখে পড়েছে, সেখানে হিমালয় নিউট্রাভেডিক্সের শেয়ার অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে বাজারে এন্ট্রি নিয়েছে। শুধু ভালো ওপেনিং হওয়াই নয়, বরং বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শেয়ারটিতে আপার সার্কিট লেগে যায়। ফলে যাঁদের ডিমেট অ্যাকাউন্টে এই আইপিও অ্যালট হয়েছিল, তাঁদের প্রথম দিনেই মোটা অঙ্কের লাভ ঘরে উঠে এসেছে।
কোম্পানিটি তাদের আইপিও-র জন্য প্রতি শেয়ারের ইস্যু মূল্য ১০৬ টাকা ধার্য করেছিল। আজ বিএসই এসএমই প্ল্যাটফর্মে এই শেয়ার ১১৮ টাকায় তালিকাভুক্ত (Listing) হয়। এর সহজ অর্থ হলো, শেয়ার বাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীরা সরাসরি ১১.৩২ শতাংশের প্রথম দিনের লিস্টিং গেইন পেয়ে যান। তবে এখানেই গল্পের শেষ হয়নি। লিস্টিংয়ের ঠিক পরেই শেয়ারের দাম রকেটের গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং এক লাফে ১২৩.৯০ টাকায় গিয়ে পৌঁছায়। এই স্তরে পৌঁছানোর পরই স্টকটিতে আপার সার্কিট লেগে যায়। সবমিলিয়ে হিসেব করলে দেখা যায়, যাঁদের কাছে এই শেয়ারগুলি আগে থেকেই বরাদ্দ ছিল, তাঁরা বর্তমানে প্রায় ১৭ শতাংশের ভারী মুনাফায় বসে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, কোম্পানিটির ২৬ কোটি টাকার এই আইপিওটি গত ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য খোলা হয়েছিল। বাজার থেকে এই আইপিও অভাবনীয় সাড়া পেয়েছিল এবং মোট ২.৩৩ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেখিয়েছিলেন নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টররা (NII), যাদের কোটা ৩.৫৮ গুণ ভরেছিল। পাশাপাশি খুচরা বা রিটেল বিনিয়োগকারীদের অংশও ২.৫৬ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের (Face Value) মোট ২৪,৯৯,৬০0টি নতুন শেয়ার বাজারে ছেড়েছে। বাজার থেকে সংগৃহীত ২৬ কোটি টাকার মূলধন কোম্পানির ব্যবসার প্রসারে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ১৩.৭৫ কোটি টাকা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বা চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে এবং ৭.৫০ কোটি টাকা বিপণন ও বিজনেস ডেভেলপমেন্টে খরচ করা হবে। বাকি অর্থের একটি অংশ করপোরেট কাজ ও আইপিও সংক্রান্ত খরচ মেটানো হবে। আর্থিক নিরিখে কোম্পানিটির ব্যালেন্স শিট অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদে ভরসা জোগাচ্ছে।