বিধানসভায় সই জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তে ফের একবার সিআইডি (CID)-এর তলব এড়িয়ে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁকে ভবানীভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সিআইডি। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে তদন্তকারী সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানিয়েছেন।
কী কারণে হাজিরা এড়ালেন? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলার শুনানি সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, এই মুহূর্তে ভবানীভবনে হাজিরা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। চিঠিতে তিনি এই বিশেষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তদন্তকারীদের কাছে আরও কিছুটা সময় চেয়েছেন।
সিআইডি-র পদক্ষেপ ও বিতর্ক: বিধানসভায় বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ সংক্রান্ত এই মামলায় এটি ছিল সিআইডি-র পক্ষ থেকে পাঠানো তৃতীয় সমন। এর আগেও দুবার বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের এই সাংসদ। গত সোমবার সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে এই তৃতীয় নোটিসটি পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল।
রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ১৯ মে বিধানসভা সচিবালয়ে জমা দেওয়া একটি চিঠিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে যে, সেই চিঠিতে প্রায় ৭০ জন তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। এরপরই রিটব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা নামে দুই বিধায়ক অভিযোগ দায়ের করলে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ওই চিঠির অন্যতম স্বাক্ষরকারী হওয়ায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে তদন্তকারী সংস্থা।
এখন প্রশ্ন উঠছে, লাগাতার হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ায় সিআইডি এবার কী পদক্ষেপ নেয়? বারবার সময় চাওয়ার বিষয়টি তদন্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। হাইকোর্টের শুনানি ও সিআইডি-র কড়া মনোভাবের মধ্যে আগামী দিনে এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





