মুখ্যমন্ত্রী নন, আজ কলকাতা হাইকোর্ট সাক্ষী থাকল এক অন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পরনে কালো কোট, গলায় ব্যান্ড— পুরোদস্তুর আইনজীবীর ছদ্মবেশে আদালত চত্বরে হাজির হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এমন পোশাকে দেখে উপস্থিত আইনজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, প্রত্যেকেই কার্যত স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ কেন আইনজীবীর পোশাকে সশরীরে এজলাসে হাজির হতে হলো তাঁকে?
মামলার প্রেক্ষাপট
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) শুনানিতে আজ কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাটি শুনছিলেন হাইকোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই আইনি অবতারের নেপথ্যে রয়েছে এক বিশেষ পারিবারিক ও আইনি সংযোগ। এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র, আইনজীবী শীষ্ণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
এজলাসের ভেতরের চিত্র
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রধান বিচারপতির এজলাসে প্রবেশ করেন, তখন আদালতের কাজ সাময়িকভাবে থমকে যায়। আইনজীবী হিসেবে তাঁর যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, আজ তা যেন নতুন করে ফিরে এল হাইকোর্টের বারান্দায়। যদিও তিনি আজ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের পরিচয়ে নয়, বরং একজন পেশাদার আইনজীবীর গরিমা নিয়েই সওয়াল-জবাবের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে মামলাটি উঠলে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
কেন এই ছদ্মবেশ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন ও লড়াকু মানসিকতার কথা সবারই জানা। কিন্তু অনেকেই হয়তো বিস্মৃত হয়েছিলেন যে, তিনি নিজেও একজন পেশাদার আইনজীবী এবং বার কাউন্সিলের সদস্য। নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে বারবার কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে তাঁর দলকে। সেই আইনি লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নিতেই এবং নিজের দলের আইনজীবীদের মনোবল বাড়াতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে কোনো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বা শীর্ষস্থানীয় নেত্রীর এভাবে আইনজীবীর পোশাকে সশরীরে হাইকোর্টে সওয়াল করতে আসার ঘটনা বিরল। আজকের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে ‘পলিটিক্যাল ড্রামা’ বললেও, তৃণমূল শিবিরের দাবি— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং তিনি আইনি পথেই যাবতীয় মিথ্যে অভিযোগের মোকাবিলা করবেন।





