আইটিআর ফাইল করার মরশুমে মাত্র কয়েকদিনেই ১২ লক্ষ টাকা আয়! পুনের সিএ-র ক্যারিশ্মায় তোলপাড় নেটদুনিয়া!

প্রতি বছর ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন বা আইটিআর (ITR) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ যত ঘনিয়ে আসে, ঠিক ততটাই চরমে ওঠে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা সিএ-দের ব্যস্ততা। এই বিশেষ সময়টিতে কর সংক্রান্ত পেশাদারদের হাতে কাজের এমন পাহাড় জমে যে দম ফেলার ফুরসত থাকে না। আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই পুনের এক সিএকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে, যা মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র নেটদুনিয়ার নজর কেড়ে নিয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে জোর গুঞ্জন চলছে যে, ওই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শুধুমাত্র আইটিআর ফাইলিংয়ের এই পিক মরশুমে বা চরম ব্যস্ততার দিনে মাত্র কয়েকদিনের ভেতরেই প্রায় ১২ লক্ষ টাকা উপার্জন করে ফেলেছেন। এই অভাবনীয় আর্থিক কামাইয়ের দাবিটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাদার মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।

মূলত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ জনৈক ব্যবহারকারী একটি পোস্ট শেয়ার করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয় যে, পুনের এক নামী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আইটিআর ফাইলিংয়ের মরশুমে কেবল কনসালটেশন ও রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমেই লক্ষ লক্ষ টাকা ফি বাবদ কামাই করেছেন। প্রকাশিত পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মোট আয় প্রায় ১২ লক্ষ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে এবং এই পুরো অঙ্কটাই এসেছে একমাত্র ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করার কাজ থেকে। এই বিপুল পরিমাণ আয়ের খবর সামনে আসতেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার ঝড় তোলে।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর কর জমার অন্তিম সময়সীমা ঘনিয়ে এলে দেশের কোটি কোটি করদাতা নিজেদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে একজন দক্ষ সিএর শরণাপন্ন হন। কর সংক্রান্ত জটিল নিয়মকানুন এবং একের পর এক বিভ্রান্তিকর ফর্ম সাধারণ মানুষের পক্ষে নিখুঁতভাবে বোঝা কোনোভাবেই সহজ কাজ নয়। সেই কারণেই বেশিরভাগ মানুষ আইটিআর ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা ভুলত্রুটি এড়াতে এবং সঠিকভাবে রিফান্ড সহ রিটার্ন জমা করতে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেন। আর ঠিক এই সুযোগেই সিএ-দের চেম্বারে পুরোনো ও নতুন ক্লায়েন্টদের অন্তহীন লাইন পড়তে শুরু করে।

যদি এই আয়ের অঙ্কটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যাবে যে এই উপার্জন মূলত ক্লায়েন্টদের মোট সংখ্যা এবং নির্ধারিত প্রফেশনাল ফি-র ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট যদি একটি মাত্র আইটিআর ফাইল করার জন্য ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা বা তার বেশি চার্জ করে থাকেন, তবে ভাবুন যে তাঁর কাছে যদি প্রতিদিন শত শত মানুষের রিটার্ন ফাইল করার কাজ আসে, তবে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করা অসম্ভব কোনো বিষয় নয়। আর সেই কারণেই এই ট্যাক্স ফাইলিংয়ের মরশুমটিকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের জন্য সারা বছরের মধ্যে সবথেকে বেশি ব্যস্ততম এবং সর্বাধিক লাভজনক সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।

এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক পক্ষ যেমন এই বিপুল আয়ের পরিসংখ্যান দেখে অবাক হয়েছেন, তেমনই অন্য একটি বড় অংশের মানুষের যুক্তি হলো— একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার জন্য বহু বছর ধরে অত্যন্ত কঠিন ও কঠোর পড়াশোনা করতে হয় এবং দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষাগুলি সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হতে হয়। সুতরাং, কোনো অভিজ্ঞ প্রফেশনাল যদি তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত মেধা, কঠোর পরিশ্রম ও বিশেষ দক্ষতার জোরে এই ধরনের মরশুমে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন, তবে তাতে অবাক হওয়ার মতো বা কটাক্ষ করার মতো কোনো ঘটনাই থাকতে পারে না।