ইথানল নীতি নিয়ে ধুন্ধুমার! সরকার বিরোধী প্রতিবাদের আগেই গৃহবন্দি খ্যাতনামা অ্যাক্টিভিস্ট তহসিন পুনাওয়ালা!

কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত E20 পেট্রোল নীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদ মার্চ এবং পরিকল্পিত অনশন কর্মসূচির ঠিক আগেই প্রখ্যাত অ্যাক্টিভিস্ট তহসিন পুনাওয়ালাকে নয়াদিল্লিতে তাঁর বাসভবনে জোরপূর্বক গৃহবন্দি করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি এবং ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির বিরুদ্ধে একটি জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলেছেন তহসিন। শনিবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এনেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে এক বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী তাঁর বাড়ির চারপাশে কড়া পাহারা বসিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) ক্ষোভ উগরে দিয়ে তহসিন পুনাওয়ালা সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, মহিলা পুলিশ আধিকারিক সহ দিল্লি পুলিশের একটি পুরো ব্যাটালিয়ন তাঁকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গৃহবন্দি করে রেখেছে! নীতিন গড়করি ইথানল নীতি নিয়ে জনরোষের ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছেন।
সামনে আসা অন্য একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে যে, ওই অ্যাক্টিভিস্ট এক কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার মুখোমুখি হয়ে সরাসরি প্রশ্ন করছেন যে, কোনো ধরনের বৈধ নথিপত্র বা লিখিত নির্দেশিকা ছাড়াই কীভাবে তাঁকে এইভাবে নজরবন্দি করে রাখা সম্ভব? কোনো ওয়ারেন্ট নেই, কোনো কাগজপত্র নেই, অথচ তাঁকে অপরাধীর মতো আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে তহসিনকে বলতে শোনা যায় যে, তিনি সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে নজরবন্দির শিকার হয়েছেন। অথচ সামনেই দেশের স্বাধীনতা দিবস, ঠিক তার ১৫ দিন আগে স্বাধীন ভারতে একজন সচেতন নাগরিককে এভাবে গৃহবন্দি করে রাখা হচ্ছে। প্রতিক্রিয়ায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা যুক্তি দেন যে, এই ধরণের প্রতিবাদ মার্চ বা জমায়েতের ফলে জাতীয় রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে পারে, তাই শান্তি বজায় রাখতে তাঁরা তাঁকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো প্রতিবাদের জেরে ‘কোকরোজ জনতা পার্টি’র টানা এক মাস ধরে চলা আন্দোলনের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই তহসিন পুনাওয়ালা বর্তমানে E20 পেট্রোল নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষকে পুঁজি করে আন্দোলন জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে চালুকৃত E20 পেট্রোল— যাতে ৮০ শতাংশ সাধারণ পেট্রোলের সাথে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো থাকে— তার তীব্র সমালোচনা করে চলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার গোষ্ঠী। বিশেষ করে ২০২৩ সালের আগের মডেলের গাড়িগুলির বহু মালিক প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, এই ইথানল-মিশ্রিত E20 জ্বালানি ব্যবহার করার ফলে যানবাহনের মাইলেজ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং গাড়িগুলির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গাড়িচালকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।