আইএসআই ও পাকিস্তানি গ্যাংয়ের ডেরায় সরাসরি যোগাযোগ! ধৃত জঙ্গি হামিমের মোবাইলে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি হামিম মণ্ডল এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে একের পর এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সূত্রে জানা গেছে, ধৃত হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) এবং পাকিস্তানের অত্যন্ত বিপজ্জনক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গ্রুপের সরাসরি যোগ রয়েছে। পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে হামিম নিয়মিত যোগাযোগ রাখত এবং গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন যে অর্পিতাও এই ভাট্টি গ্যাংয়ের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিল। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুচারুভাবে এই যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছিল এবং পশ্চিমবঙ্গ সহ কেন্দ্রীয় স্তরের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও ব্যক্তিত্বকে নাশকতার টার্গেট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে গোয়েন্দাদের জোরালো অনুমান।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃত হামিম মণ্ডলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করে দুটি সন্দেহজনক নম্বর পাওয়া গেছে। ওই ফোনে পাকিস্তানের কান্ট্রি কোড অর্থাৎ ‘+92’ দিয়ে শুরু হওয়া একাধিক ফোন নম্বরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের জোরালো প্রমাণ মিলেছে। কল রেকর্ডে উজের, আবিদ এবং হামিদের মতো একাধিক পাকিস্তানি ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এসটিএফ-এর দাবি, আবিদ ও হামিদের সঙ্গে সরাসরি পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর যোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এবং সমস্ত যোগাযোগ সম্পূর্ণ গোপন রাখতে ক্যালিফোর্নিয়া, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন বিদেশের রেজিস্টার্ড ফোন নম্বর ব্যবহার করে হামিম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হতো।
এদিকে, এই ঘটনার পর ধৃত অর্পিতা সরকারের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অর্পিতার জেঠু জানিয়েছেন, অর্পিতার এক বিশেষ বন্ধুর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, যে প্রায়শই বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলত। পরিবারের দাবি, ওই বন্ধু নাকি অর্পিতাকে সবরকম মদত দেওয়ার কথা বলত এবং বলত যে বাংলাদেশ থেকে তাকে বড় সাহায্য করা হতে পারে। বোরখা পরে মালদা থেকে কলেজে যাতায়াতকারী অর্পিতা কীভাবে এই চক্রে জড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে স্বজনরাও স্তম্ভিত। অর্পিতার বাবা সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন যে, তাঁর মেয়ে যে কোনো উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে কিংবা তার সঙ্গে পাকিস্তানের নাম জড়িয়ে যাবে, তা তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি। তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তাঁর মেয়ে এমন কোনো অপরাধমূলক বা দেশবিরোধী কাজে জড়াতে পারে।
এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলই মূলত হানিট্র্যাপের মতো বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অর্পিতা সরকারকে সুকৌশলে ব্যবহার করছিল। তবে গোয়েন্দা বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্পিতার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছিল, আর সেই নজরদারির সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত খোদ মূল অভিযুক্ত হামিম মণ্ডলের নাগাল পান তদন্তকারীরা। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে দেশ ও রাজ্যের আর কারা কারা জড়িত রয়েছে এবং এই চক্রের পরবর্তী পরিকল্পনা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে এসটিএফের আধিকারিকরা ধৃতদের একটানা জেরা করে চলেছেন।