আইএএফ-এর সুপার সুখোই আপগ্রেড প্রোগ্রাম, দেশীয় ইঞ্জিন ব্যবহারের ভাবনা

ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) তাদের Su-30MKI যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা বাড়াতে ‘সুপার সুখোই’ আপগ্রেড প্রোগ্রামটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির অধীনে, ২৬০টিরও বেশি যুদ্ধবিমানে উন্নত ইঞ্জিন এবং আধুনিক অস্ত্র সংযোজন করা হবে। প্রাথমিকভাবে রাশিয়া থেকে AL-41F-1S এবং Izdeliye 177S-এর মতো উন্নত ইঞ্জিন কেনার কথা ভাবা হলেও, ভারত এখন দেশীয়ভাবে তৈরি কাভেরি ডেরিভেটিভ ইঞ্জিন (KDE)-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যমান AL-31F ইঞ্জিনগুলোকে আপগ্রেড করার কথা বিবেচনা করছে।

সুপার সুখোই আপগ্রেডের মূল বৈশিষ্ট্য
উন্নত প্রযুক্তি: এই আপগ্রেড প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত থাকবে উন্নত এভিওনিক্স, একটি উন্নত AESA রাডার এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা।

আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র: যুদ্ধবিমানগুলোতে অ্যাস্ট্রা মিসাইলের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে।

ইঞ্জিন আপগ্রেড: Su-30MKI-এর বর্তমান AL-31FP ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে অতীতে কিছু সমস্যা দেখা গিয়েছিল। তাই ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানো এই আপগ্রেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) এবং গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (GTRE) যৌথভাবে এই কাজ করছে।

দেশীয় KDE প্রোগ্রামের সম্ভাবনা
ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং GTRE দ্বারা তৈরি KDE প্রোগ্রামটি একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে AL-31F ইঞ্জিনে ব্লেড কুলিং, ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ এবং তাপ প্রতিরোধী উপাদানের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা সম্ভব। এই আপগ্রেডের ফলে ইঞ্জিনের থ্রাস্ট ১০-১৫% বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এর আয়ুও বাড়বে।

যদি এই দেশীয় আপগ্রেড সফল হয়, তবে তা ভারতীয় বিমান বাহিনীর সামরিক সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের আত্মনির্ভরতাও আরও দৃঢ় হবে।