২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের চাবিকাঠি ছিল একটি প্রতিশ্রুতি— অজয় নদের ওপর দরবারডাঙায় তৈরি হবে স্থায়ী সেতু। যা সরাসরি যুক্ত করবে আসানসোল ও বীরভূম জেলাকে। কিন্তু পাঁচ বছর অতিক্রান্ত, আরও একটি বিধানসভা নির্বাচন শিয়রে, অথচ সেই প্রতিশ্রুতি আজও রয়ে গিয়েছে কাগজের কলমেই। তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিং-এর এই ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে এখন রণক্ষেত্র জামুড়িয়া।
অস্থায়ী সেতুই ভরসা, বর্ষায় বাড়ে আতঙ্ক
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে অজয় নদের ওপর পাথর-মাটি দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী সাঁকোই একমাত্র ভরসা।
দুর্ভোগ: বর্ষা এলেই সেই মাটি ধুয়ে যায়, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ।
বিপজ্জনক পরিস্থিতি: এই রাস্তা দিয়ে কোনো অ্যাম্বুল্যান্স যাতায়াত করতে পারে না। ফলে মুমূর্ষু রোগী বা প্রসূতিদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয় ডজনখানেক গ্রামের মানুষকে।
আর্থিক ক্ষতি: জামুড়িয়ায় প্রায় ২৫টি বড় ও মাঝারি কারখানা থাকলেও যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় থমকে রয়েছে এলাকার বাণিজ্যিক উন্নয়ন।
চতুর্মুখী আক্রমণে শাসকদল
সেতু নিয়ে বিধায়কের নিষ্ক্রিয়তায় সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা।
সিপিএম: বাম নেতা মনোজ দত্তর কটাক্ষ, “২০২১-এ তৃণমূল প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ৫ বছরে প্রশাসন বা বিধায়ক— কেউই কোনো সদর্থক পদক্ষেপ করেননি।” বিজেপি: গেরুয়া শিবিরের নেতা সন্তোষ সিং পাল্টা আশ্বাস দিয়ে বলছেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে শুধু স্থায়ী সেতু নয়, অজয় নদে চেক ড্যামও তৈরি করা হবে।” বাংলা পক্ষ: জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এলাকার ভূমিপুত্রকে বিধায়ক করা হোক, যিনি মাটির সমস্যা বুঝবেন।
ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ়ের সাধারণ সম্পাদক অজয় খৈতান জানান, মুখ্যমন্ত্রী থেকে জেলাশাসক— সকলের কাছেই দরবার করা হয়েছিল। এমনকি প্রশাসনিক বৈঠকেও প্রস্তাব রাখা হয়েছিল, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
জামুড়িয়ার মানুষের প্রশ্ন, স্থায়ী সেতুর প্রতিশ্রুতি কি তবে নিছকই ভোটে জেতার হাতিয়ার ছিল? নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এবার শাসকদল কোন নতুন কৌশল নেয়, সেটাই এখন দেখার।





