অ্যামেরিকা পৌঁছানোর আগেই মর্মান্তিক পরিণতি! দালালের ফাঁদে পড়ে ইথিওপিয়ায় পণবন্দী গুজরাতের তিন তরুণ-তরুণী

গুজরাতের মেহসানা জেলার এক সাধারণ পরিবারের তিন সদস্যকে আমেরিকা পাঠানোর নাম করে প্রতারণা এবং ইথিওপিয়ায় অপহরণের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অবৈধ উপায়ে আমেরিকা পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়েছেন ৩০ বছর বয়সি মমতা ছাবড়া, তাঁর তুতো ভাই ২৩ বছর বয়সি ঋত্বিক জানসারি এবং সম্পর্কিত বোন ২৭ বছর বয়সি ময়ূরি সোলাঙ্কি। এই ঘটনার পর থেকেই চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পরিবারটিতে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মমতার স্বামী গত তিন বছর ধরে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। স্বামীর কাছে পৌঁছানোর জন্য মমতা পর পর ছয়বার বৈধ উপায়ে ভিসার আবেদন করলেও তা নাকচ হয়ে যায়। এরপরই মরিয়া হয়ে ওঠে পরিবারটি এবং বেআইনি মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত দালালের দ্বারস্থ হয়। আলপেশ পাঞ্চাল নামের এক দালালের মাধ্যমে তাঁরা বরোদার বাসিন্দা ভার্গভ পটেল নামক অন্য এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই তিনজনকে নিরাপদে আমেরিকা পৌঁছে দেওয়ার নাম করে মোট ৭৫ লক্ষ টাকা দাবি করে ওই চক্রটি। পরিবারের দাবি, ধাপে ধাপে এজেন্টের হাতে ইতিমধ্যেই ৭০ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর মমতা পরিবারকে ফোন করে জানান যে তাঁরা নিরাপদে কানাডা পৌঁছে গেছেন। কিন্তু এই ফোন আসার পরেই তিনজনের মোবাইল ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়। এর ঠিক তিন দিন পর খান পরিচয়ে এক ব্যক্তি পরিবারটিকে ফোন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। সে জানায়, মমতা, ঋত্বিক এবং ময়ূরিকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাদের মুক্ত করতে হবে অতিরিক্ত ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ।
মেয়ে এবং আত্মীয়দের আমেরিকা পাঠাতে গিয়ে ইতিমধ্যেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন মমতার বাবা কীর্তিভাই চৌহান। কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত দালাল আলপেশ পাঞ্চাল স্বীকার করেছে যে ওই তিনজন কানাডা পৌঁছানোর আগেই ইথিওপিয়ায় অপহরণের শিকার হয়েছেন। পাঞ্চালের দাবি, সে নিজেও অপহরণকারীদের ৬০ লক্ষ টাকা মিটিয়ে দিয়েছে, তবুও চক্রটি আরও ১ কোটি টাকা দাবি করছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই গুজরাতের লাংঘনাজ থানার পুলিশ একটি জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। বেআইনি মানব পাচারের এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং ইথিওপিয়ায় বন্দি তিন ভারতীয় নাগরিক ঠিক কোন পরিস্থিতিতে রয়েছেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।