শ্রীনগর থেকে ইউসমার্গ—নিরাপত্তা বাহিনীর নিখুঁত জালে ধরা পড়ে যেভাবে নিকেশ শীর্ষ সন্ত্রাসী

জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার দুর্গম জঙ্গল এলাকায় ফের একবার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরাট সাফল্য। মঙ্গলবার গভীর রাতে দুধপাথরি ও ইউসমার্গ এলাকার গভীর জঙ্গলে যৌথ বাহিনী ও সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ কমান্ডার সুলেমান শাহ ওরফে ‘মুসা’ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। গোমহেন্দ্রে এই সফল অভিযানের পর উপত্যকায় নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মুসাকে ঘিরে চলা এই জঙ্গিবিরোধী অভিযান কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ইউসমার্গের পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিকেশ হয়েছিল মুসার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসির। সেই সংঘর্ষের সময় সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল এই লস্কর কমান্ডার। এরপর থেকেই ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তার গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল।

নির্দিষ্ট ও গোপন খবরের ভিত্তিতে সম্প্রতি কোরাগ ও ইউসমার্গ এলাকার জঙ্গল ঘেরাও করে শুরু হয় মেগা যৌথ তল্লাশি অভিযান। তল্লাশির সময় জঙ্গিদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা মাত্রই তাদের আত্মসমর্পণের জন্য চ্যালেঞ্জ জানায় নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ না করে উল্টো জওয়ানদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এর পরই শুরু হয় তীব্র পাল্টা আক্রমণ, যার পরিণতিতে সেনার গুলিতে খতম হয় লস্কর কমান্ডার মুসা।

এদিকে এই কুখ্যাত লস্কর কমান্ডারের নিহতের ঘটনায় নানা মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পহেলগাম জঙ্গি হামলায় নির্মমভাবে নিহত সন্তোষ জাগদালের মেয়ে আসাওয়ারি জাগদালে এই অপারেশনের পর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি, জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসদমন অভিযানে এই এনকাউন্টারের সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য কী এবং এর ফলে উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় কুলকারনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুসার মতো শীর্ষ কমান্ডারের নিকেশ হওয়া লস্কর নেটওয়ার্কের জন্য এক বিরাট ধাক্কা এবং এটি উপত্যকায় শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক।