কানপুরের কোটিপতি ওষুধ ব্যবসায়ী হত্যা রহস্য, খুনি কি পাবে বাবার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি?

কানপুরের কোটিপতি ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচা হত্যা মামলায় নতুন মোড় সামনে এসেছে। ঘটনার ১৯ দিন পর গ্রেপ্তার হওয়া ছেলে সুব্রত মিনোচা এখনও জেলে থাকলেও, অভিযুক্ত পুত্রবধূ শালু ২১ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে অবস্থান করছেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সুব্রত অপরাধ স্বীকার করলেও, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিনীত মিনোচার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী কে হবেন?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিনীত মিনোচা শহরের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তাঁর বার্ষিক ব্যবসার লেনদেন ছিল আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সুব্রত যদি বাবার খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার সম্পত্তির কী হবে? এছাড়া শালু কিংবা তার ৫ বছরের শিশুসন্তান এই বিশাল সম্পত্তির অধিকার পাবে কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযুক্ত হলেই সম্পত্তির অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মৃত ব্যক্তিকে হত্যা করেন বা হত্যায় সহায়তা করেন, তবে তিনি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকার পাওয়ার অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। এছাড়া ২৭ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তির উত্তরাধিকার এমনভাবে গণনা করা হবে যেন তিনি মৃত ব্যক্তির আগেই মারা গেছেন। প্রবীণ আইনজীবী ও উত্তরাধিকার আইনের বিশেষজ্ঞ দীনেশ শুক্লার মতে, সুব্রত দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হারানোর পাশাপাশি সমস্ত অধিকার হারাবেন।

অন্যদিকে, পুত্রবধূ শালু কেবল সম্পর্কের খাতিরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরাধিকারী হতে পারেন না। শিশুটির অধিকার নির্ভর করবে সম্পত্তির প্রকৃতি এবং বিনীত মিনোচা কোনো বৈধ উইল রেখে গেছেন কি না তার ওপর। শালুর আইনজীবী শিবকান্ত দীক্ষিত জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সম্পত্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অত্যন্ত prematature। সুব্রত দোষী সাব্যস্ত হলেও উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি অধিকার তার থাকবে। পাশাপাশি, আদালত স্বামী ও সন্তানের অধিকার এবং ভরণপোষণের বিষয়টি আইনসম্মতভাবে নির্ধারণ করবে। তবে বিচারিক আদালত সুব্রতকে খালাস দিলে, তিনি সাধারণ আইন বা বৈধ ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী সম্পত্তির স্বাভাবিক অংশীদার হবেন।