বুধবার দুপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বর। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষ ও বিএলও-দের (BLO) হেনস্থার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, খোদ বিধায়কের উপস্থিতিতেই হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে।
গণ-ইস্তফার ডাক বিএলও-দের: এদিন কাজের পরিবেশ ও পদ্ধতির প্রতিবাদে বিডিও অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন সমস্ত বিএলও। বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁরা তাঁদের গণ-ইস্তফাপত্র ইআরও-র (ERO) হাতে তুলে দেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত নথি অ্যাপে আপলোড করার পরেও বারবার নতুন নথি চাওয়া হচ্ছে। বারবার সংশোধনের নির্দেশে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ হয়রান হচ্ছেন, তেমনই দায়ভার এসে পড়ছে বিএলও-দের ওপর। এক আন্দোলনকারী জানান, “অতিরিক্ত মানসিক চাপে আমরা বিপর্যস্ত। এখন সরকারি অ্যাপ খুললেই আতঙ্ক কাজ করে।”
বিধায়কের উপস্থিতিতেই উত্তজনা: বিএলও-দের আন্দোলনের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও বিডিও অফিসের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে স্লোগান ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতেই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। এক সময় উত্তেজিত জনতা হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়।
পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তড়িঘড়ি এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। আপাতত বিডিও অফিসের হেয়ারিং-এর কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বা বিডিও-র পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গোটা এলাকা বর্তমানে থমথমে, মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।





