উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ত্রিপুরার সম্ভাবনাময় তরুণ অ্যাঞ্জেল চাকমার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এবার সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানাল তাঁর পরিবার। বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য থেকে শুরু হওয়া বচসা যে শেষ পর্যন্ত খুনের রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁর পরিজনেরা। ন্যায়বিচারের আশায় নিহত তরুণের বাবা তরুণ কান্তি চাকমা সোমবার আগরতলায় টিপরা মোথা প্রধান প্রদ্যোৎ দেববর্মার শরণাপন্ন হয়েছেন।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে?
দেরাদুনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র ছিলেন অ্যাঞ্জেল। গত ৯ ডিসেম্বর দেরাদুনের সেলাকুই বাজারে ভাই মাইকেলকে নিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ:
বর্ণবিদ্বেষী কটাক্ষ: সেখানে ৬ জন যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে এবং ‘চাইনিজ মোমো’ ও ‘চিনা নাগরিক’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করে।
আক্রমণ: অ্যাঞ্জেল শান্তভাবে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করার কথা বললেও অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মাইকেলকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার পর অ্যাঞ্জেল বাধা দিলে শুরু হয় নৃশংস হামলা।
মর্মান্তিক পরিণতি: ধাতব ব্রেসলেট দিয়ে মাথায় আঘাত এবং তলপেটে ছুরির কোপে রক্তাক্ত হন অ্যাঞ্জেল। দীর্ঘ ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ২৬ ডিসেম্বর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রতিভাবান ছাত্র।
পলাতক মূল অভিযুক্ত, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
ঘটনায় উত্তরাখণ্ড পুলিশ সিট (SIT) গঠন করে ৫ জনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত নেপালের বাসিন্দা যজ্ঞরাজ অবস্তি (২২) এখনও পলাতক। পুলিশ তার মাথার দাম ১ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছে। তবে দেরাদুন পুলিশের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রদ্যোৎ দেববর্মা। তিনি বলেন, “নৃশংস ঘটনার তিনদিন পর কেন এফআইআর হলো? রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে বর্ণবিদ্বেষের এই লড়াইয়ে আমাদের এক হতে হবে।”
অসহায় বাবার করুণ আর্তি
নিহত অ্যাঞ্জেলের বাবা পেশায় বিএসএফ জওয়ান তরুণ কান্তি চাকমা বর্তমানে মণিপুরে কর্মরত। ছেলের খুনের বিচার চাইতে যাতে অসুবিধা না হয়, সেজন্য তিনি দিল্লিতে বদলির আবেদন জানিয়েছেন সরকারের কাছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “পাঁচজন ধরা পড়লেও মূল খুনি এখনও বাইরে। সিবিআই তদন্ত ছাড়া আমরা সঠিক বিচার পাব না।”
ত্রিপুরার এক সাধারণ পরিবারের সন্তানের এই মর্মান্তিক মৃত্যু উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যোৎ দেববর্মা এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।





