জমি দখল এবং তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে আগামী ২৮ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। সোমবার দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে ইডি-র আইনজীবী কার্যত বোমা ফাটান। তদন্তকারীদের দাবি, সোনা পাপ্পু একজন ‘হ্যাভিচুয়াল অফেন্ডার’ বা অভ্যস্ত অপরাধী, যিনি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও জয় কামদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এক বিশাল সিন্ডিকেট চালাতেন।
আদালতে ইডি জানায়, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং চরম হুমকির মুখে ফেলে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি পানির দরে হস্তগত করাই ছিল এদের মূল পেশা। ইডি-র তথ্য অনুযায়ী, ৩০টিরও বেশি ভুয়া সংস্থা খুলে এই তোলাবাজির টাকা পাচার করা হতো। মাত্র ১.২০ কোটি টাকায় ৭.৭৭ কোটি টাকার জমি দখল, কিংবা ৫.৪২ কোটি টাকার সম্পত্তি ১.২৯ কোটি টাকায় কেনার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তদন্তে উঠে এসেছে, এসপি কনস্ট্রাকশন, কেপি কনস্ট্রাকশন, সুকৃতি ডেভলপার এবং হেভেন ভ্যালির মতো সংস্থার অ্যাকাউন্টে নগদে প্রায় ২১.৮৩ কোটি টাকা জমা পড়েছে। সোনা পাপ্পু ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা সংস্থাগুলির মাধ্যমে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ছোট-মাঝারি বহু রিয়েল এস্টেট সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এদিন ইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তে অসহযোগিতা করছেন সোনা পাপ্পু। সমন পেয়েও হাজিরা না দেওয়ার মতো ঘটনার জেরে তাঁর অস্ত্র ভাণ্ডার ও আর্থিক লেনদেনের উৎস নিয়ে আরও গভীরে পৌঁছাতে চায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। আদালতের নির্দেশে এখন সোনা পাপ্পুর সিন্ডিকেটের বাকি পান্ডাদের হদিশ পেতে মরিয়া তদন্তকারীরা।





