ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর ও নিচুতলার কর্মীদের গ্রেফতারির খবর কার্যত নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান চাপে দলীয় কর্মীদের মনোবল যখন তলানিতে, তখন দলের অস্তিত্ব রক্ষায় সরাসরি ময়দানে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেতাদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং রাজপথে আন্দোলনের ধার বাড়ানোর লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করল একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ আইনি সহায়তা কমিটি।
তৃণমূল সূত্রে খবর, গত সোমবার কালীঘাটে উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, বিধাননগর এবং বরাহনগর এলাকার কাউন্সিলরদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনার এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দলীয় নেতাদের মধ্যে যে আতঙ্ক ও ভীতি সঞ্চার হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন মদন মিত্র, সব্যসাচী দত্ত, তাপস চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ব্রাত্য বসু। এই পাঁচজন নেতার ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলরদের আইনি সহায়তার পথ সুগম করার। তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে আইনি লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকবেন রাজ্যের অভিজ্ঞ আইনজীবী ও নেতারা, যেমন—মলয় ঘটক, শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ২৪ পরগনার শহরাঞ্চলে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধি এবং কাউন্সিলরদের সাহস জোগানোই এখন তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য। একদিকে যেমন আইনি লড়াই চলবে, অন্যদিকে তেমনই রাজপথে প্রতিবাদী কর্মসূচি নিয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।
এদিনের বৈঠকের পর কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র অত্যন্ত ক্ষুরধার ভাষায় বিরোধী দল ও প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের হাজার হাজার কর্মী আজ ঘরছাড়া। তাঁদের ওপর মিথ্যা মামলা চাপিয়ে দিশাহীন করে দেওয়া হচ্ছে। বেআইনি ভাঙার নামে চলছে বল্গাহীন অত্যাচার। আমাদের কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে। ঠিক এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা এই বৈঠক করেছি। দমদম থেকে কর্মীদের জন্য ‘ফুল ঝাঁপ’ অর্থাৎ সর্বাত্মক লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে। এখানকার কর্মীরা খুব শীঘ্রই রাজপথে নেমে বড় ধরণের আন্দোলন গড়ে তুলবেন।”
মদন মিত্রের এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, পিঠ ঠেকে যাওয়ার মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস এবার ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চলেছে। আইনি কবচ এবং দলীয় নেতৃত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কাউন্সিলরদের ভীতি দূর করাই এখন দলের পাখির চোখ। আগামী দিনে উত্তর ২৪ পরগনার এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসে কি না, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি।





