বিশ্বখ্যাত সেতার বাদক ও গ্র্যামি জয়ী শিল্পী অনুষ্কা শঙ্করের সঙ্গে ঘটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বর্তমানে বিনোদন জগতে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। গত সপ্তাহান্তে একটি কনসার্টের পর ভক্তদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় এক অনুরাগী হঠাৎ করেই ব্যক্তিগত পরিসর লঙ্ঘন করে শিল্পীকে আক্ষরিক অর্থেই শূন্যে তুলে নেন। এই ঘটনা অনুষ্কাকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে, যদিও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসিমুখে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে শিল্পী জানান, কনসার্ট শেষে যখন তিনি ভক্তদের আবদার মেটাচ্ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই তাঁকে কোলে তুলে নেন। ওই ভক্তের এমন ‘বিয়ার হাগ’ বা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরায় অনুষ্কা চরম অস্বস্তিতে পড়ে যান। তাঁর পা শূন্যে ঝুলছিল, কিন্তু ওই মুহূর্তে প্রতিবাদ করার মতো মানসিক পরিস্থিতি ছিল না শিল্পীর। বাধ্য হয়ে এক অদ্ভুত জড়তায় তিনি ওই ব্যক্তিকে তাঁকে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে ওই ভক্তের আনা পোস্টারে সই করে হাসিমুখেই বিদায় জানান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে অনুষ্কা জানান, ঘটনার সময় তিনি বিষয়টিকে কেবল একজন ভক্তের ‘অতি-উৎসাহ’ বলে মনে করেছিলেন। ভেবেছিলেন ওই ব্যক্তির হয়তো কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু ঘটনাটি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করার পর যখন তিনি মানুষের ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত প্রতিক্রিয়া দেখলেন, তখন তাঁর নিজেরও হুঁশ ফেরে। শিল্পী উপলব্ধি করেন যে, ওই মুহূর্তে তাঁর নীরব থাকার পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের লালিত অতীতের কোনো এক অন্ধকার স্মৃতি। শৈশবের সেই ভয়ংকর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, “কেউ যখন আমার ব্যক্তিগত সীমানা অতিক্রম করে, তখন আমি থতমত খেয়ে যাই। সেই মুহূর্তে সঠিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারি না, যা আসলে অতীতের আতঙ্কের ফল।”
বিনোদন জগতে তারকারা প্রায়শই অনুরাগীদের উন্মাদনার শিকার হন। প্রিয় তারকাকে এক ঝলক দেখার বা ছুঁয়ে দেখার জন্য অনেক ভক্তই মরিয়া হয়ে ওঠেন। কিন্তু এই উন্মাদনা যখন ব্যক্তিগত পরিসর বা ‘বাউন্ডারি’ অতিক্রম করে, তখন তা শিল্পীর জন্য কতটা ট্রমাটিক হতে পারে, অনুষ্কার এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। তিনি স্পষ্টতই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, শিল্পীদেরও একটি ব্যক্তিগত জায়গা আছে, যা সম্মান করা উচিত।
নিজের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অনুষ্কা একই পরিস্থিতির শিকার হওয়া মানুষদের প্রতি এক আবেগঘন বার্তাও দিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, যদি কেউ এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়ে থাকেন, তবে বিষয়টিকে তুচ্ছ না করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। একজন বিশ্বমানের শিল্পীর এমন অকপট স্বীকারোক্তি বিনোদন মহলে সুরক্ষাবিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুরাগীদের ভালোবাসা অবশ্যই কাম্য, কিন্তু সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ যেন কোনোভাবেই কারো ব্যক্তিগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ না করে, তা নিয়েই এখন সোচ্চার সচেতন মহল।





