ফাল্গুন আর চৈত্র মাসের মিঠে রোদ এখন অতীত। পয়লা বৈশাখ পেরোতেই নিজের আসল রূপ দেখাতে শুরু করেছে প্রকৃতি। দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বইছে লু, আর পারদ চড়ছে হুহু করে। কলকাতার অস্বস্তি যখন চরমে, তখনই আলিপুর আবহাওয়া অফিস শোনাল এক মিশ্র বার্তা। একদিকে যেমন পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, তেমনই ৫ জেলায় ধেয়ে আসছে কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া।
৫ জেলায় কালবৈশাখীর দাপট
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বিকেলের পরই দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলায় আকাশ কালো করে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া—এই জেলাগুলিতে ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জেলাগুলিতে ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হবে সাধারণ মানুষ।
শহরের তাপমাত্রা ও অস্বস্তি
আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও আর্দ্রতার কারণে প্রকৃত অনুভূতি হবে ৪০ ডিগ্রির মতো। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৩ ডিগ্রি। আগামী কয়েক দিনে কলকাতার তাপমাত্রা আরও ২-৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও রোদের তেজে তিলে তিলে পুড়বে শহরবাসী।
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তেজ
দক্ষিণ যখন গরমে পুড়ছে, উত্তরবঙ্গ তখন ভিজবে বৃষ্টিতে। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ৭০-১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার পর্যন্ত উত্তরের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। তবে মালদা ও দুই দিনাজপুরে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।
ঘূর্ণাবর্তের খেল ও বৃহস্পতিবারের ডেডলাইন
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর বিহার থেকে দক্ষিণ ছত্তীসগঢ় পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবেই রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ এলাকায় উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও গরম থেকে পাকাপাকি নিষ্কৃতি এখনই মিলছে না। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুকনো হাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।





