অসমের বন্যায় বড় ঘোষণা! ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ৭৫ হাজার টাকা!

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসমে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এক ঐতিহাসিক ও বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সোমবার থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সহায়তার প্রথম কিস্তির টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বর্তমানে ডিব্রুগড়ে অবস্থান করছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। সেখান থেকেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তার সূচনা করেছেন।
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলিতে এখনও বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক রয়েছে। সম্প্রতি শিবসাগরে নতুন করে আরও তিনজনের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর মেলায় চলতি বন্যায় অসমে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ জনে। যদিও সামগ্রিকভাবে জল কিছুটা নামায় রাজ্যের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মোট সংখ্যা কমে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ২০০ জনে নেমে এসেছে, তবুও শিবসাগর জেলার পরিস্থিতি এখনও সবচেয়ে ভয়াবহ। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিবসাগর, চড়াইদেও, জোরহাট এবং গোলাঘাট জেলার যে সমস্ত পরিবারগুলির বাড়ি ভয়াবহ এই বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁরা ত্রাণের প্রথম কিস্তিতে অন্যান্য সহায়তার পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা সহ মোট ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সাহায্য পাবেন।
চলতি পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় যে, এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে কেবল শিবসাগরেই। বর্তমান বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ২০০ জন। অসমের মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর জেলা, যেখানে প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ জলের তলায় বা দুর্গত অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, চড়াইদেও জেলায় প্রায় ৪০ হাজার এবং জোরহাটে ২২ হাজারের বেশি মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। রাজ্যের পাঁচটি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এই মুহূর্তে মোট ৫৪টি ত্রাণ ও বিতরণ কেন্দ্র সাফল্যের সঙ্গে চালানো হচ্ছে। সেখানে নিরাপদ আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন ১৩ হাজার ৭১১ জন অসহায় মানুষ। পাশাপাশি, এখনো পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার ৪২২ হেক্টর উর্বর চাষের জমি জলের তলায় ডুবে রয়েছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে গোলাঘাট জেলার নুমাগড় এলাকায় এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়েই বইছে ধানসিঁড়ি নদী, যা নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
শনিবার যেখানে রাজ্যের প্রায় ১.৮ লক্ষ মানুষ সরাসরি বন্যায় আক্রান্ত ছিলেন, রবিবার ও সোমবার সেই আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও দুর্গত মানুষের অমানবিক দুর্দশা একচুলও কাটেনি। এই সংকটজনক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এবং সমস্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজের সঠিক অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে আজ শিবসাগরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরাসরি পরিদর্শন করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার। এই সফরে তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন। রাজ্যজুড়ে এই মুহূর্তে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ এবং ত্রাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন।