অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট! কবে থেকে মিলবে বকেয়া বেতন? জেনে নিন হিসাব

অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশসমূহ যদি ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ প্রকাশিত হয় এবং নতুন বেতন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়, তবে দেশের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে বকেয়া বেতনের হিসাব। অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যদি সরকার ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে নতুন বেতন হার কার্যকর করে, তবে বিজ্ঞপ্তি পরে জারি হলেও সেই তারিখ থেকেই বকেয়া বেতন জমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে নতুন বেতন কার্যকরের তারিখ নিয়ে সরকার চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়।

সপ্তম বেতন কমিশন ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয়েছিল এবং এর সুপারিশসমূহ ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছিল। সেবার কর্মচারীরা কার্যকরের তারিখ থেকে প্রকৃত বেতন প্রদানের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য বকেয়া বেতন পেয়েছিলেন। অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের সভাপতি মনজিৎ সিং প্যাটেলের মতে, সপ্তম বেতন কমিশনের সময় নতুন পে ম্যাট্রিক্সের উপর ভিত্তি করে বকেয়া গণনা করা হয়েছিল। সংশোধিত মূল বেতন থেকে আগের বেতন বিয়োগ করে এই পার্থক্য নির্ণয় করা হতো, যেখানে বাড়ি ভাড়া ভাতার (HRA) বকেয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

একটি কাল্পনিক উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যাক। যদি কোনো কর্মচারীর মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা হয় এবং তিনি ১২৫% মহার্ঘ ভাতা (DA) পান, তবে মোট পরিমাণ হবে ৪০,৫০০ টাকা। ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের উদাহরণে, সংশোধিত মূল বেতন হবে ৪৬,২৬০ টাকা এবং ডিএ একীভূত হওয়ার পর তা আবার শূন্য থেকে শুরু হয়। এর ফলে পুরনো ও নতুন বেতনের পার্থক্য দাঁড়ায় প্রতি মাসে ৫,৭৬০ টাকা। ১২ মাসের জন্য এই পরিমাণ হবে ৬৯,১২০ টাকা। তবে প্রকৃত বকেয়ার পরিমাণ নতুন বেতন কাঠামো, ডিএ এবং অন্যান্য ভাতার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, অতীতের প্রবণতা অনুযায়ী অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলি ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি এই তারিখটি অনুমোদিত হয়, তবে সেই সময় থেকেই বকেয়া পাওনা হওয়া উচিত। এই কমিশন প্রায় ৫০ লক্ষ কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগীর ওপর প্রভাব ফেলবে। পূর্ববর্তী পঞ্চম ও ষষ্ঠ কমিশনে যথাক্রমে ১৯ ও ৩২ মাস সময় লেগেছিল। ফলে অষ্টম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে প্রতিবেদন এবং সরকারের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির দিকেই এখন সকলের নজর রয়েছে।