মহরমের মিছিলে ১৫ হাজার মানুষকে বিষ খাইয়ে খুনের ছক! পুনের ব্যবসায়ীর কাণ্ডে তোলপাড় মুম্বই

গত জুনে মুম্বইয়ে মহরমের মিছিলে অংশ নেওয়া অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করল মুম্বই পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুনের বাসিন্দা তথা পেশায় ৪০ বছর বয়সি এক ব্যবসায়ী ফায়াজ প্রেমজিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি ধৃতের বিরুদ্ধে আদালতে ৭০০ পাতার একটি বিশদ চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ, যেখানে সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ফায়াজ প্রেমজি নিজের সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের ওপর নানা কারণে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই একসঙ্গে বহু মানুষকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মহরমের মিছিলকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ব্যথা উপশমের নাম করে প্রেমজি ও তার লোকজন বিশেষ ক্যাপসুল বিলি করতে শুরু করে। বিষয়টি কর্তব্যরত পুলিশের নজরে আসতেই তারা সন্দেহভাজন ক্যাপসুল বিলিকারীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এর পরেই মূল অভিযুক্ত ফায়ার প্রেমজির সন্ধান পায় পুলিশ।
এদিকে, ওই ক্যাপসুল খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সালমান সাঈদ নামে এক যুবক মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে তাঁর শরীরে অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষাক্ত রাসায়নিকের অস্তিত্ব রয়েছে। এরপরই পুলিশ উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলগুলি ভারত সরকারের মুম্বইয়ের একটি গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে—জানা যায়, ওই ক্যাপসুলগুলিতে ‘জিঙ্ক ফসফাইড’ মেশানো ছিল, যা মূলত ইঁদুর মারার বিষ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত প্রেমজি ৫০ কেজি বিষাক্ত রাসায়নিক কিনে মুম্বইয়ের একটি লজে উঠেছিলেন। সেখানেই তিনি ও তার সহযোগীরা মিলে এই ক্যাপসুলগুলি তৈরি করেছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ১৪ হাজারের বেশি বিষাক্ত ক্যাপসুল উদ্ধার করেছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশ মোট ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নথিভুক্ত করেছে। তবে পুনের ওই রং ব্যবসায়ী ঠিক কী কারণে এত বড় হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করেছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়। ধৃতের দাবি, নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি ক্ষোভ থেকেই সে এই কাণ্ড ঘটাতে চেয়েছিল। যদিও তার এই বয়ান নিয়ে তদন্তকারীদের মনে গভীর সন্দেহ রয়েছে। এটি কেবলই ব্যক্তিগত আক্রোশ, নাকি এর পিছনে কোনো বৃহত্তর সন্ত্রাসী বা গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।