অষ্টম বেতন কমিশনে বড় চমক! DA ও DR গণনার পদ্ধতিতে আসছে আমূল পরিবর্তন?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সামনে এসেছে। অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে ‘অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’ (AIDEF) দ্বিতীয় সম্পূরক স্মারকলিপি জমা দিয়েছে, যেখানে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR) গণনার বর্তমান পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে পর্যালোচনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এই সুপারিশ যদি গৃহীত হয়, তবে কেন্দ্রীয় কর্মীদের বেতন ও পেনশনের হিসেব নিকেশের পুরো কাঠামোটিই বদলে যেতে পারে।

কেন এই পরিবর্তনের দাবি?
বর্তমানে DA ও DR গণনার ভিত্তি হলো ‘অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স’ (AICPI-IW)-এর ১২ মাসের গড়। AIDEF-এর মতে, এই সূচকটি মূলত শিল্পশ্রমিকদের জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সাধারণ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফেডারেশনের যুক্তি, শিল্পশ্রমিকদের জীবনযাত্রার ধরন এবং সরকারি কর্মীদের খরচের খাতে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

বর্তমান সূচকের ত্রুটি:
২০২২-২৩ সালের সংশোধিত কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বাস্কেটে খাদ্য ও পানীয়ের ভার ৩৬.৭৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের কর্মী ও পেনশনভোগীরা তাদের আয়ের একটি বিশাল অংশ ব্যয় করেন শিক্ষা, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা ও বাড়িভাড়ার পেছনে। বর্তমান সূচক এই প্রকৃত মূল্যস্ফীতির চিত্রটি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছে না। বিশেষ করে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল; বার্ধক্যজনিত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যবিমার আকাশছোঁয়া খরচ মেটাতে বর্তমান DR বৃদ্ধি তাদের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় কার্যত ব্যর্থ।

ফেডারেশনের নতুন প্রস্তাবনা:
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে AIDEF ‘কর্মী-নির্দিষ্ট জীবনযাত্রার ব্যয় সূচক’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দাবি:

সরকারি কর্মীদের ব্যয়ের ধরনের ওপর ভিত্তি করে একটি পৃথক মূল্যসূচক তৈরি করতে হবে।

ভবিষ্যতের বেতন ও পেনশন সংশোধনে বয়স্ক পরিচর্যার খরচকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের সময় কর্মীদের বর্তমান ব্যয়ের চিত্রটি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যাতে সংশোধনটি বাস্তবসম্মত হয়।

ভবিষ্যৎ কী?
বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশন বিভিন্ন কর্মী সংগঠন ও পেনশনভোগী সংস্থার প্রস্তাবগুলি যাচাই-বাছাই করছে। এই কমিশন যদি ফেডারেশনের সুপারিশ মেনে নেয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো ও অবসরকালীন সুবিধায় এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার, কমিশন এই দাবির প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।