অলিম্পিক থেকে এশিয়ান গেমস—পদক জিতলেই সোনায় মোড়া পুরস্কার! খেলাধুলোয় বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের

রাজ্যের ক্রীড়াজগতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে সরকার। রাজ্যের উদীয়মান ও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের যথাযথ উৎসাহ জোগাতে এবং পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান ক্রীড়ার পীঠস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ আকর্ষণীয় ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে বিশেষ ও সর্বাঙ্গীন প্রকল্প—”শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প”। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন স্তরের প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা এবং রাজ্যজুড়ে ক্রীড়া পরিকাঠামোকে আরও মজবুত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তোলা।

নতুন এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্য বা জাতীয় স্তরের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং সেগুলিতে সফলভাবে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশাল আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের জাতীয় গেমস বা মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের বড় মাপের টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের দায়িত্ব নেওয়া আয়োজক সংস্থাকেও ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, রাজ্য স্তরের বিভিন্ন গেমস আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সাফল্যকে কুর্নিশ জানাতে এবং তাঁদের আরও উৎসাহিত করতে পুরস্কার ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ‘অটল খেল সম্মান’-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আওতায় অলিম্পিক গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী ক্রীড়াবিদকে সরাসরি ১ কোটি টাকা নগদ পুরস্কার দেবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, রূপো জয়ী অ্যাথলেট পাবেন ৭৫ লক্ষ টাকা এবং ব্রোঞ্জ জয়ী ক্রীড়াবিদ পাবেন ৫০ লক্ষ টাকা। শুধু অলিম্পিক নয়, কমনওয়েলথ গেমস এবং এশিয়ান গেমসের মতো বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ীদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা, রৌপ্য পদক জয়ীদের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা এবং ব্রোঞ্জ পদক জয়ীদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বিভিন্ন বিভাগে পদকজয়ী কৃতি ক্রীড়াবিদদের যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ১৫ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারে ভূষিত করবে রাজ্য প্রশাসন।

শুধু বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রাই নন, বরং বিগত দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন, এমন প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত কৃতি ক্রীড়াবিদদের কথাও ভোলেনি সরকার। তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য সুনিশ্চিত করতে ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা’-র আওতায় মাসিক ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন ক্রীড়াবিদরা কঠোর অনুশীলনে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন, তেমনই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ও রাজ্যের পতাকা উড্ডীন করার ক্ষেত্রে তাঁদের অসামান্য অবদান আরও বেশি সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে, খেলাধুলার উন্নতি ও ক্রীড়াবিদদের কল্যাণে রাজ্য সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক গোটা ক্রীড়া মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।