অযোধ্যা সফরে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ! রাম মন্দির বিতর্কের আবহে চম্পত রায়কে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আসন্ন অযোধ্যা সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। শুক্রবার অযোধ্যায় পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে দর্শন ও পূজা করবেন বলে নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। তবে এই সফরের প্রাক্কালে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়কে মুখ্যমন্ত্রীর মন্দির কর্মসূচি থেকে দূরে রাখার বিষয়টি এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা নিরাপত্তা ও প্রোটোকল সংক্রান্ত নির্দেশাবলীর ২৯ নম্বর দফায় এই চমকপ্রদ নির্দেশটি প্রকাশ্যে আসে। ওই নির্দেশনায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর রাম মন্দির দর্শন ও পূজার আয়োজনের ক্ষেত্রে চম্পত রায় যেন নিজে উপস্থিত না থেকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কাউকে মনোনীত করেন। এমনকি, সেই প্রতিনিধির নাম কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটের সিইউজি নম্বরে জানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণ খুঁজতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রাম মন্দিরের ‘নৈবেদ্য’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্ক ও তদন্তকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। মন্দিরের প্রসাদ বা নৈবেদ্যের গুণমান নিয়ে হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং সেই সম্পর্কিত তদন্তের ফলে প্রশাসন ও ট্রাস্টের মধ্যে একপ্রকার দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। চম্পত রায়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একাধিক সাফাই দিলেও তাতে সন্তুষ্ট নয় উচ্চপদস্থ প্রশাসন, এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
যদিও ট্রাস্ট বা প্রশাসনের তরফ থেকে সরকারিভাবে এই সিদ্ধান্তের কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ দর্শানো হয়নি, তবে প্রটোকলে এই হঠাৎ বদল নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনিক মহলে অনেকেই মনে করছেন, এটি আদতে একটি কৌশলী পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে বিতর্কিত বিষয়গুলি থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে দূরে রাখতে চাওয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ একে চম্পত রায়ের উপর একপ্রকার প্রশাসনিক চাপ হিসেবেও দেখছেন। এখন সবার নজর মুখ্যমন্ত্রীর অযোধ্যা সফরের দিকে। শেষ পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গণে এই উচ্চপর্যায়ের সফরের সময় কী ধরনের প্রোটোকল মেনে চলা হয় এবং চম্পত রায় এই বিষয়ে কী অবস্থান গ্রহণ করেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।