অযোধ্যা, রাম, অপারেশন সিঁদুর! দীপাবলির শুভেচ্ছা বার্তাতেও মোদীর ‘বিহার অঙ্ক’, কী সেই রাজনৈতিক বার্তা?

দীপাবলি উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর এই শুভেচ্ছা বার্তায় যেমন রয়েছে দেশের সাফল্য ও নাগরিক কর্তব্য পালনের আহ্বান, তেমনই অনেকে এতে বিহার বিধানসভা ভোটের চেনা অঙ্ক ও সামরিক পরাক্রমের বার্তা খুঁজে পাচ্ছেন।

রাম, সিঁদুর এবং বিহারের অঙ্ক

প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বার্তায় অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য এবং মাওবাদী দমন অভিযানের কথা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “ভগবান শ্রী রাম আমাদের ন্যায়ের পথে চলা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শিক্ষা ও সাহস ঢুকিয়েছেন। কয়েক মাস আগে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় আমরা এর এক জীবন্ত উদাহরণ দেখেছি। অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন, ভারত কেবল ন্যায়ের পথে চলেনি, বরং অন্যায়ের প্রতিশোধও নিয়েছে।”

অনেকেই মনে করছেন, দীপাবলির শুভেচ্ছা বার্তায় ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সঙ্গে শ্রীরামচন্দ্রকে জুড়ে দেওয়ার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিহার ভোটের মুখে চেনা অঙ্ক কাজ করছে।

নকশালমুক্ত এলাকায় প্রদীপ, জিএসটি বাঁচত উৎসব

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় দেশের সাফল্য হিসেবে মাওবাদী দমনের বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, “এই দীপাবলি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রথমবার দেশের বহু জেলায়, এমনকী প্রত্যন্ত এলাকাতেও প্রদীপ প্রজ্বালন হবে। এই সমস্ত জেলাগুলিতে নকশালবাদ এবং মাওবাদী সন্ত্রাস মূল থেকে নির্মূল হয়েছে।”

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন ‘জিএসটি বাঁচত উৎসব’-এর কথা। নবরাত্রির প্রথম দিনে জিএসটির হার কমানোর ফলে নাগরিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করছেন বলেও তিনি জানান।

আইএনএস বিক্রান্তের মাধ্যমে পরাক্রমের বার্তা

যদিও তাঁর শুভেচ্ছা বার্তার বাইরে, সোমবারই প্রধানমন্ত্রী আইএনএস বিক্রান্তের মহড়া পরিদর্শন করেছেন। সরকারি মহল থেকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, পরবর্তী যে কোনও যুদ্ধে ভারত দেশে তৈরি অস্ত্র ব্যবহারে আরও বেশি জোর দেবে। গোয়ায় মহড়া পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে তৈরি এই যুদ্ধ জাহাজ করাচির অদূরে গিয়ে পৌঁছতেই পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতি চেয়ে আরজি জানায়। বিহার বিধানসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেম এবং পরাক্রমকে হাতিয়ার করছেন বলে অনেকে মনে করছেন।

নাগরিকদের প্রতি মোদীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর এই যাত্রায় নাগরিক হিসেবে পাঁচটি প্রধান কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়েছেন:

১. স্বদেশী পণ্য ব্যবহার: গর্বের সঙ্গে ‘স্বদেশী’ পণ্যকে গ্রহণ করা। ২. এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত: এই চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সমস্ত ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। ৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। ৪. স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার: খাদ্যে তেলের ব্যবহার ১০% কমানো এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম করা। ৫. ঐক্য ও ইতিবাচকতার আলো: সমাজে ঐক্য, সহযোগিতা এবং ইতিবাচকতার প্রদীপ জ্বালানো।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy