অযোধ্যায় রামমন্দিরের জমি দুর্নীতিতে বড় পর্দাফাঁস! চাঞ্চল্যকর নথি এসআইটি-র হাতে তুলে দিলেন সঞ্জয় সিং

অযোধ্যায় রামমন্দির সংলগ্ন জমি ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। এই ইস্যুতে এবার সরাসরি আসরে নামলেন আম আদমি পার্টির (আপ) প্রবীণ নেতা তথা সাংসদ সঞ্জয় সিং। বুধবার তিনি অযোধ্যায় জমি সংক্রান্ত অনিয়মের একগুচ্ছ নথি কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পান্তের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এসআইটি (SIT) চেয়ারম্যানের সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাতের পর সঞ্জয় সিং বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানান, এখানে একটি বৃহৎ মাপের দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটেছে।
সঞ্জয় সিংয়ের দাবি, কমিশনার তাঁকে এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, অযোধ্যার জমিগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও ক্রয়ের সময়কার বেনিয়ম নিয়ে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শুধু জমি কেনাবেচা নয়, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের অনুদান সংগ্রহেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সঞ্জয় সিং বলেন, “দানপত্র চুরির ঘটনা নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রশ্ন উঠছে। শোনা যাচ্ছে, ভগবান শ্রীরামের পাদুকা ও হারের মতো পবিত্র সামগ্রীও চুরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দানের টাকা উদ্ধার হলেও মূল অপরাধীদের টিকি পাওয়া যাচ্ছে না।” তাঁর ক্ষোভ, বিষয়টি যখন প্রকাশ্যে এবং তদন্তাধীন, তখন কেন এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের করা হয়নি? তিনি এই অব্যবস্থার জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যে অযোধ্যা ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। জানা গেছে, আগামীকাল, ২৬শে জুন অযোধ্যা সফরে যাচ্ছেন আপ-এর জাতীয় আহ্বায়ক এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সঞ্জয় সিং জানান, অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ ২৫শে জুন দুপুর ২টোর সময় লখনউ বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং এরপরই তাঁর অযোধ্যা যাত্রার পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে।
সঞ্জয় সিং আরও জানান, আগামী ২৬শে জুন সকাল ১১টা নাগাদ অরবিন্দ কেজরিওয়াল অযোধ্যার হনুমানগড়িতে ভগবান শ্রীরামের দর্শন ও আরতিতে অংশগ্রহণ করবেন। অযোধ্যা সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তিনি সেখানকার শ্রদ্ধেয় সাধু-সন্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাঁদের আশীর্বাদ প্রার্থনা করবেন। রামলালার প্রতি ভক্তি নিবেদনের পাশাপাশি সঞ্জয় সিংয়ের আনা জমি দুর্নীতির অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের সূচনা করল। এখন দেখার বিষয়, এসআইটি এই নথিগুলোর ভিত্তিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং কেজরিওয়ালের অযোধ্যা সফর থেকে রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলে যায়।