রাজ্যে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালুর প্রাক্কালে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। জনকল্যাণমূলক এই প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছায় এবং সরকারি অর্থের কোনো অপচয় না হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের (Physical Verification) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ মে-র মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই কড়া যাচাই? প্রশাসন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। পরবর্তীতে আরও প্রায় ৬ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ‘ASDD’ (Absent, Shifted, Dead, Duplicate) ভোটারের নাম যাতে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীর তালিকায় কোনোভাবে ঢুকে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
সরকারি অবস্থান: এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যাঁদের নাম তালিকায় নেই অথচ তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকার আপাতত সহমর্মিতা দেখাবে। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে আবেদন খারিজ হয়ে গেলে তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অতীতে আমফান পরবর্তী ক্ষতিপূরণ এবং আবাস যোজনা নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়েই সরকার এবার শুরু থেকেই সতর্ক।
আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক: অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হলে রাজ্যে প্রতি মাসে প্রায় ৬৬৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই বিশাল অঙ্কের সরকারি অর্থের যাতে সঠিক ব্যবহার হয় এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, তার জন্য কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
যা যা করা হচ্ছে:
বুথ-স্তরের সার্ভে: প্রতিটি এলাকায় গিয়ে বুথ-স্তরের আধিকারিকরা যাচাই করবেন কে অযোগ্য এবং কে যোগ্য।
ASDD তালিকার ওপর নজর: বিশেষ করে মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হবে।
সময়সীমা: ২৫ মে-র মধ্যে প্রতিটি জেলাকে তাদের যাচাই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে অযোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে প্রকল্পটির স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই বাড়ি বাড়ি সার্ভের ফলে কতজন নতুন সুবিধাভোগী তালিকা থেকে বাদ পড়েন।
(তথ্যসূত্র: সরকারি সূত্র)





