অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের আর্জি খারিজ! হাইকোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক এফআইআর (FIR)-কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি একপ্রস্থ আইনি লড়াইয়ের পর স্থগিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই অত্যন্ত হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানিতে আদালত বর্তমান পর্যায়ে অভিষেককে সরাসরি কোনও অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। এর ফলে সাময়িকভাবে বড়সড় স্বস্তি থেকে বঞ্চিত হলেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে আগামী ৩০ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে এবং সেদিন সমস্ত পক্ষের বিস্তারিত যুক্তি শোনার পরই মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আদালত এ-ও আশ্বস্ত করেছে যে, এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনও আকস্মিক বা কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তবে তিনি অবিলম্বে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
এদিনের শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে দেশের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল অত্যন্ত জোরালোভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার আর্জি জানান। তাঁর মূল যুক্তি ছিল যে, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় একের পর এক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং প্রতিটি আলাদা মামলার জন্য পৃথক পৃথক পিটিশন বা রিট আবেদন দাখিল করা বাস্তবে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অযৌক্তিক। একাধিক মামলার বিষয়বস্তু একত্রিত করে একটিমাত্র রিট পিটিশন দাখিল করার গ্রহণযোগ্যতা বা ‘মেইনটেনেবিলিটি’ নিয়ে আদালতের তরফে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার জবাবে কপিল সিবাল সওয়াল করেন যে প্রতিটি এফআইআর-এর আলাদা প্রেক্ষাপট থাকলেও তার মানে এই নয় যে তাঁদের সত্তরটি পৃথক পিটিশন দাখিল করতে হবে। এর মধ্যে ন্যায়বিচারের একটি গভীর আইনি দিক জড়িয়ে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) এসভি রাজু এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আদালতকে জানান যে এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রথাগত ন্যায়বিচারের বিশেষ কোনও বিষয় নেই। সওয়ালের এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তির আর্জি জোরালো করতে কপিল সিবাল রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে হাইকোর্টের দেওয়া বিগত কয়েকটি পূর্ববর্তী আদেশের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি আদালতকে জানান যে সেই সময় আদালত শুভেন্দুকে বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করে নির্দেশ দিয়েছিল যে ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নতুন এফআইআর দায়ের করতে হলে আদালতের পূর্বানুমতি নিতে হবে। সিবালের জোরালো যুক্তি ছিল যে অতীতে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিয়ম বলবৎ হওয়া উচিত।
যদিও রাজ্য সরকার ও বিরোধী পক্ষের আইনজীবীরা শুভেন্দু অধিকারীর মামলার এই তুলনা টানার তীব্র বিরোধিতা করে স্পষ্ট জানান যে একটি বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কখনোই সমান সুযোগ বা ‘প্যারিটি’ দাবি করতে পারেন না। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করে যে শুভেন্দু অধিকারীর মামলাকে কোনোভাবেই সর্বক্ষেত্র বা সব মামলার ক্ষেত্রে একরৈখিক নজির হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়। আদালত মন্তব্য করে যে প্রতিটি মামলাই সম্পূর্ণ আলাদা এবং প্রতিটিকে স্বাধীনভাবে বিবেচনা করতে হবে। এর জবাবে কপিল সিবাল সেই বক্তব্য মেনে নেন। শেষ পর্যন্ত সমস্ত আইনি জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আদালত আগামী ৩০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার বিশেষ আর্জি সাময়িকভাবে নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে যে এই সময়ের মধ্যে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে আবেদনকারী ফের আইনের দ্বারস্থ হতে পারবেন।