অভিষেকের বাড়িতে মধ্যরাতে পুলিশ! সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ হাই কোর্টের

শালবনিতে জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে পুলিশের আকস্মিক তল্লাশিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়াল। এই ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার শুনানির সময় মামলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

আদালতে কী ঘটল?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে সওয়াল করেন যে, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই মধ্যরাতে পুলিশ বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায়। তাঁর অভিযোগ, ভোরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (Disaster Management Team) ডেকে বাড়ির তালা ভাঙা হয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবীর সওয়ালের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনারা ঠিক কী চাইছেন?”

আদালতের নির্দেশ:

দীর্ঘ শুনানির পর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে:

  • ফুটেজ সংরক্ষণ: ঘটনার দিন (১৩ জুন) সিসিটিভি ফুটেজের অডিও-ভিডিও রেকর্ড অবিলম্বে সংরক্ষণ করতে হবে।

  • রিপোর্ট তলব: আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এই ঘটনার বিষয়ে হলফনামা জমা দিতে হবে।

  • জবাবি হলফনামা: রাজ্য রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে আবেদনকারী (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) তাদের জবাবি হলফনামা পেশ করবেন।

কেন হয়েছিল এই তল্লাশি?

সূত্রের খবর, শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি জমি জালিয়াতি মামলার প্রেক্ষিতে তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজেই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। ওই দলে মহিলা পুলিশকর্মীরাও ছিলেন। তবে পুলিশের এই পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। অন্যদিকে, রাজ্যের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি রাজদীপ মজুমদার আদালতকে জানিয়েছেন যে, মূল অভিযুক্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।

আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়টি এখন পুলিশের হলফনামার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।