অবৈধ মাদ্রাসা থেকে ৪০ নাবালিকা উদ্ধার, স্থানীয়দের অভিযোগে পর্দাফাঁস, পলাতক পরিচালক!

উত্তরপ্রদেশের বহরাইচ জেলার পায়াগপুর মহকুমায় একটি অবৈধ মাদ্রাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৪০ জন নাবালিকাকে উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এই অভিযান চালায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। উদ্ধার হওয়া মেয়েগুলির বয়স ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

শৌচাগারে বন্দি নাবালিকারা
বহুদিন ধরে অবৈধভাবে চলা এই মাদ্রাসাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ছিল। বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়ার পর মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে মহিলা পুলিশ নিয়ে মাদ্রাসাটিতে অভিযান চালানো হয়।

প্রশাসনের দাবি, তল্লাশির সময় মাদ্রাসার চারতলার একটি বাথরুমের ভিতর ৪০ জন নাবালিকাকে বন্ধ করা অবস্থায় পাওয়া যায়। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এর কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি।

মহকুমা শাসক দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় ঢুকতে গেলে পরিচালক খালিল আহমেদ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করেন। পুলিশি হস্তক্ষেপে প্রশাসন ভিতরে ঢুকতে সক্ষম হয়।

অর্থের উৎস নিয়ে সন্দেহ, ইডি তদন্তের দাবি
তল্লাশি চলাকালীন মাদ্রাসার মালিক খালিল আহমেদ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যান। যদিও তাঁর মেয়ে ফতিমা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, “এখানে কোচিং সেন্টার চলত, এটা মাদ্রাসাই নয়।”

তবে স্থানীয়রা মাদ্রাসার পরিচালকের বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালিল আহমেদ দশ বছর আগেও একটি ছোট জুতো-স্যান্ডেলের দোকান চালাতেন। তাঁর কীভাবে একটি তিনতলা বাড়ি ও এলাকায় ২৪টি দোকান হলো? এই অবৈধ সম্পত্তির খোঁজে স্থানীয়রা ইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসনের পদক্ষেপ
উদ্ধার হওয়া ৪০ জন নাবালিকাকে মহিলা পুলিশের সাহায্যে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। তারা এখানে মাদ্রাসায় পড়াশোনার জন্য এসেছিল নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভর্তির বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রশাসন এই বিষয়ে পুলিশি হস্তক্ষেপ চাইবে এবং বিস্তারিত রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ অফিসার মহম্মদ খালিদ জানিয়েছেন, জেলায় প্রায় ৪৯৫টি অবৈধ মাদ্রাসা চলছে, যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।